পলিনেট হাউসে নিরাপদ ফসল উৎপাদন

এফএনএস (ফয়সাল মাহমুদ; চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : : | প্রকাশ: ১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০১:০৫ এএম : | আপডেট: ৫ জানুয়ারী, ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম
পলিনেট হাউসে নিরাপদ ফসল উৎপাদন

লোহার অ্যাঙ্গেলের কাঠামো আর পলিথিন ও নেট দিয়ে দিয়ে তৈরি বিশেষ এক ঘরের নাম পলিনেট হাউস। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে দেখা মিলবে এই ঘরের। এ ঘরের মাধ্যমেই বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ্ম মাটিতে সারাবছর চাষাবাদ করা যাবে যে কোন ফসল। উৎপাদন করা যাবে স্বাস্থ্যবাদ নিরাপদ চারা। কৃষি বিভাগ ও চাষীরা বলছেন, কৃষিতে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলা করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে পলিনেট হাউস। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় বংপুরের কৃষক শামীম রেজা ও সাদিকুল ইসলাম টুটুলকে পলিনেট হাউস নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে কৃষি বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায়। মাত্র ৬ মাস আগে নির্মিত পলিনেট হাউসের সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। পলিনেট হাউস দুটি ঘুরে দেখা গেছে, শামীম রেজার পলিনেট হাউসে বিভিন্ন ফসলের চারা ও বিষমুক্ত শসা চাষ করছেন। সাদিকুল ইসলাম টমেটোর পাশাপাশি চাষ করছের চন্দ্রমল্লিকা ফুল। শামীম রেজা জানান, পলিনেট হাউসের বহুবিধ সুবিধা আছে। বাইরে খরা, বৃষ্টি বা প্রচণ্ড শীত, ঘন কুয়াশা যায়-ই থাক না কেন ভেতরে এর কোন প্রভাব পড়ে না। তাই যে কোন ঋতুর যে কোন পরিস্থিতিতেই ভেতরে চাষাবাদ করা যায় অনায়াসে। পলিনেট হাউসে ফসলের চেয়ে বেশি ভাল উৎপাদন হয় চারা। ফসলের চেয়ে চারা উৎপাদন বেশি লাভজনক। শামীম রেজা বলেন, আগে বৃষ্টি হলে বা ঘন কুয়াশা পড়লে আমাদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত। আবার সূর্যের অতিরিক্ত তাপের কারণেও নষ্ট হতো উৎপাদিত চারা। কিন্তু এখন সেই ভয় নেই। আবহাওয়া পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন পলিনেট হাউসে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবান চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে। শামীম রেজার পলিনেট হাউসে বেগুনের চানা কিনতে এসেছিলেন একই উপজেলার লেবুডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, পলিনেট হাউসের চারা থেকে ৯৯ শতাংশই গাছ হয়। এটা সাধারণত মরে যায় না। বাইরে থেকে কেনা চারা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা পলিনেট হাউসের চারা কিনতেই বেশি আগ্রহী। দাম একটু বেশি নিলেও আমরা এখানকার চারাই কিনতে চাই। পলিনেট হাউসের আরেক মালিক, সাদিকুল ইসলাম টুটুল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র ফুলচাষী আমি। যদিও বাইরে ফুল চাষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পলিনেট হাউসে ফুল চাষের পরিকল্পনা করেছি। এখন চন্দ্রমল্লিকা ফুল চাষ করছি। পরে জারবেরা, টিউলিপসহ অন্যান্য ফুল চাষ করবো। পলিনেট হাউস একটি সময়পোযোগী ও লাগসই প্রযুক্তি। কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর আমাদের একেবারেই নিখরচায় এ পলিনেট হাউস বানিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির ধরন ও আবহাওয়ার কারণে সব সময় সব ফসল করা সম্ভব হয় না আমাদের। বৃষ্টি-বাদল ও শীত-কুয়াশা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় আমাদের। এখন সেই সমস্য আর থাকবে না।   কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’ -এর আওতায় বিনামূল্যে নির্মাণ করে দেয়া এই পলিনেট হাউস। ৬০ শতাংশ সূর্যালোক প্রতিরোধী শেড নেট, পোকা-মাকড় প্রতিরোধী ইনসেক্ট নেট ও আধুনিক ড্রিপ ও মিষ্ট পদ্ধতিতে সেচ সুবিধা রয়েছে পলিনেট হাউসে। এতে করে বছরব্যাপি উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন সম্ভব। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিরুপ প্রভাব কৃষিতে পড়ছে সেটা মোকাবেলা করার জন্য একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এই পলিনেট হাউস। উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের জন্যও একটি শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি বলে মনে করি। এই পলিনেট হাউসের মাধ্যমে সারা বছর উচ্চমূল্যের ফসল করতে পারে। পাশাপাশি চারা উৎপাদন করতে পারে। সূর্যের যে ক্ষতিকর রশ্মি তা পলিনেট হাউসের মধ্যে ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারে না। অত্যধুনিক সেচ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করা যায়। তিনি বলেন, পলিনেট হাউসে নিরাপদ ফসল ও চারা উৎপদনে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি কর্মকর্তারা।

0 LIKE
0 LOVE
0 LOL
0 SAD
0 ANGRY
0 WOW
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে