রাজশাহীর নদীগুলো বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

এফএনএস | প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
রাজশাহীর নদীগুলো বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

একসময় স্বচ্ছ পানির ধারায় সমৃদ্ধ ছিল পদ্মা ও তার শাখা নদীগুলো। নদীগুলো ছিল জীবিকা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে রাজশাহী নগরীর আশপাশের সেই নদীগুলোর চিত্র বদলে গেছে। এখন পদ্মার পানিও অনেক জায়গায় কালচে, আর শহরঘেরা বারাহী, স্বরমঙ্গলা, নবগঙ্গা, বারনই ও হোজা নদী ধীরে ধীরে বর্জ্যবাহী নালায় পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এ সংকটকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পানি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাসপাতাল ও কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। এসব বর্জ্য শোধনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নদীর পানি ক্রমেই দূষিত হয়ে উঠছে। কোথাও কোথাও কালো পানির ওপর ভাসছে প্লাস্টিক, পলিথিন ও কেমিক্যাল মিশ্রিত ফেনা; দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের পরিবেশে। ফলে একসময় জীবন্ত নদী হিসেবে পরিচিত অনেক নদী আজ কার্যত মৃতপ্রায়। এই দূষণের প্রভাব শুধু নদীর পানিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকায়। নদীর পানি ব্যবহারকারী জেলে, কৃষক ও নদীপারের বাসিন্দারা বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দৈনিক খবরাখবর থেকে জানা গেছে, দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে দাউদ, একজিমা, স্ক্যাবিস ও সোরিয়াসিসের মতো রোগ বাড়ছে। এমনকি একটি পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে দূষিত পানি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ায় খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষকেরা অনেক সময় না জেনেই এই পানি দিয়ে ফসলে সেচ দিচ্ছেন। এর ফলে ফসলের মাধ্যমে বিষাক্ত উপাদান মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাস ধ্বংস হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় আঘাত। এই পরিস্থিতির পেছনে মূলত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবই দায়ী। শহরের বর্জ্য পানি শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এখনো স্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রকল্পের কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে সংকট আরও গভীর হবে। নদী কেবল পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়; এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজশাহীর নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দ্রুত বর্জ্য পানি শোধনাগার স্থাপন, শিল্প ও হাসপাতালের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি। রাজশাহীর নদীগুলোকে নর্দমায় পরিণত হতে দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি নদী রক্ষার দায়িত্বও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে