সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা

নিজের নিয়মে অফিস করছেন গোদাগাড়ী এলজিইডি প্রকৌশলী

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
নিজের নিয়মে অফিস করছেন গোদাগাড়ী এলজিইডি প্রকৌশলী

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় মেনে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা থাকলেও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে এর ব্যত্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলী সাদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো অফিস করা এবং নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ২৯ মার্চ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা তা মানছেন না বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তিনি নিয়মিত অফিসে না এসে নিজের সুবিধামতো আসা-যাওয়া করেন। এতে দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং অন্য কর্মচারীরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কখনো জেলা অফিসে মিটিংয়ের কথা বলে রাজশাহী শহরেই অবস্থান করেন, আবার কখনো অফিসে না গিয়ে বাসায় থাকেন। ফলে প্রয়োজনীয় কাজে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গত ২৫ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কক্ষ খোলা থাকলেও কম্পিউটার চালু ছিল। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঈদের ছুটি শেষে ২৯ মার্চও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। সহকর্মীরা জানান, তিনি এখনো অফিসে আসেননি। সর্বশেষ ৩০ মার্চ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আবারও অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তার কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে লাইট ও কম্পিউটার চালু রয়েছে। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী রিপনসহ অন্যরা উপস্থিত থাকলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি। পরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাইট পরিদর্শনে রয়েছেন। অফিস সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করতে হয়।” তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি অযথা বিদ্যুৎ অপচয় ও অফিস শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল সাদত রত্ন বলেন, “সরকারি নির্দেশনা নিজ নিজ দপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন নিয়মিত অফিস করছেন না, সেটি তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে