কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার লাল নগর এলাকার এক অবিবাহিত মোছাঃ মেহের নিগার কুড়িয়ে পাওয়া এক নবজাতক শিশুর মা হিসেবে তাকে লালন-পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে আইনি সহায়তা কামনা করেছেন। জানা যায়, মোছাঃ মেহের নিগার কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার লাল নগরের বাসিন্দা মৃত মোজাফফর হোসেন ও আকলিমা বেগমের বড় মেয়ে। গত ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার ছোট বোন মমজাত খাতুন ঢাকা জেলার জিরানী কোনাপাড়া, সাভার, আশুলিয়া এলাকার ময়লার স্তুপ থেকে নবজাতক শিশুর কান্না ও কুকুরের অস্বাভাবিক ডাকাডাকিতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন কাপড়ে মোড়ানো একটি নবজাতক শিশু সেখানে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শিশুটিকে দেখে মায়ায় পড়ে যান এবং তাকে নিজ বাসায় নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আতঙ্কের কারণে পরিবার প্রথমে দাবি করে যে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া হয়েছে। এভাবেই প্রায় পাঁচ মাস শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে লালন-পালন করে আসছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। স্থানীয় সমাজকল্যাণ কর্মকর্তারা শিশুটিকে নিয়ে যেতে চায়। তিনি এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে নিজের কাছেই রেখে দেন। এদিকে, অবিবাহিত মেহের নিগার জানান, শিশুটিকে লালন-পালনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে তার মা হিসেবে আবিষ্কার করেছেন এবং কোনো অবস্থাতেই শিশুটিকে অন্যের কাছে দিতে চান না। তিনি আইনগতভাবে শিশুটির অভিভাবকত্ব পেতে চান। এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা-এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি শোনার পর তিনি তাকে শিশুসহ ঢাকায় এসে গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টি তুলে ধরার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঢাকায় এসে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অঙ্গীকারনামায় সই করেন এবং বিষয়টি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বরাবর লিখিতভাবে আইনী সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন এবং যার অনুলিপি পুলিশ সুপার ঢাকা ও কুষ্টিয়া জেলা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আশুলিয়া থানা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা ঢাকা জেলা ও সাভার উপজেলায় প্রেরণ করেন। ইতিমধ্যে শিশুটির বয়স ৫ মাস অতিবাহিত করেছে এবং তার নাম রাখা হয়েছে আবদুর রহমান আনাচ। তিনি এ বিষয়ে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।