রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় কৃষক আহমেদ জোবায়ের (২৩) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- বিএনপি নেতা মোনারুল ইসলাম ওরফে রুহুল আমিন (৩৩) ও রুবেল হোসেন (৩৮)। এদের মধ্যে মোনারুল মামলার ১ নম্বর ও রুবেল ৩ নম্বর আসামি। র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় র্যাব-৫ এর রাজশাহী সিপিএসসির একটি দল এ অভিযান চালায়। সোমবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব। এর আগে পুকুর খনন চক্রের হোতা হত্যা মামলার আসামি বিপ্লব হোসেনকে (৫২) গ্রেপ্তার করে র্যাব। গত ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৫–এর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১০–এর ফরিদপুরের সিপিসি-৩–এর একটি দল যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। বিপ্লবের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া গ্রামে। তিনি এলাকায় পুকুর খনন চক্রের হোতা। এ ঘটনায় জড়িত দুই বিএনপি নেতা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। সোমবার কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
উল্লেখ্য গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামের বিলে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুকুর খনন চক্রের হোতা হত্যা মামলার আসামি বিপ্লব হোসেনের সহযোগিতায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বকুল বিলে কৃষকদের জমিতে জোর করে পুকুর কাটতে শুরু করেছিলেন। রাতে কৃষকেরা টের পেয়ে জমি রক্ষায় ওই বিলে নামেন। এ সময় আহমেদ জোবায়েরকে ভেকুর নিচে পিষে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় নিহত জোবায়েরের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর মোহনপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে এক্সকাভেটর চালক আবদুল হামিদকে ঘটনার দিন রাতে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছিল। এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে সোমবার মোহনপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।