কাঁচা ডিম বিতরণে অভিভাবকদের অসন্তোষ

বাউফলে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম উদ্বোধন

এফএনএস (হারুন অর রশিদ; বাউফল, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
বাউফলে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম উদ্বোধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৩০ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলার দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ। তবে কর্মসূচি শুরুর দিনেই কিছু অভিভাবকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাঁচা ডিম দেওয়া হচ্ছে, যা শিশুদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খাওয়ার উপযোগী নয়। এতে অনেক ক্ষেত্রে ডিম ভেঙে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। জানা গেছে, দেশের ১৫০টি উপজেলায় একযোগে এই স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার-এর অর্থায়নে বাউফল উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচ দিন এ খাদ্য সহায়তা পাবে। স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি করা এবং ঝরে পড়া রোধ করা। ২০১০ সাল থেকে দেশের দরিদ্র ও দুর্গম এলাকায় এই কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সাপ্তাহিক খাদ্যতালিকা অনুযায়ী-

রবিবার: ১টি বান ও ১টি ডিম

সোমবার: ১টি বান ও ইউএইচটি দুধ

মঙ্গলবার: ১টি বান ও ফোর্টিফাইড বিস্কুট

বুধবার: ১টি বান ও ১টি ডিম

বৃহস্পতিবার: ১টি বান ও ১টি ডিম

এছাড়া সপ্তাহে এক-দুই দিন মৌসুমি ফল দেওয়ার কথাও রয়েছে। ভোলা জেলার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জন উন্নয়ন সংস্থা (জেজেএস) রুটি, ডিম ও ফল সরবরাহ করছে এবং আরএফএল দুধ সরবরাহ করছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ডড়ৎষফ ঋড়ড়ফ চৎড়মৎধসসব (ডব্লিউএফপি)। অভিভাবক সাইফুল সিকদার বলেন, “কাঁচা ডিম দেওয়ায় শিশুরা তাৎক্ষণিকভাবে খেতে পারছে না। এতে তাদের পুষ্টির উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।” উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসাইন জানান, নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে তা মনিটরিং করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে