আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে ভিজিএফ তালিকাভুক্ত অনুপস্থিত ব্যক্তিদের চাউল বিতরণ নিয়ে প্রোপাগান্ডার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে তালিকাভুক্তদের মাঝে পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
খাজরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু জানান, খাজরা ইউনিয়নে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ৭৬৫ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকা মোতাবেক গত ১৮ মার্চ চাউল বিতরণ করা হয়। ভঙ্গুর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ইউনিয়নের ৩ স্থানে চাউল বিতরণ করা হয়। ৬ নং ওয়ার্ডের চেউটিয়ায় তালিকাভুক্ত ১৩১ জনকে ১০ কেজি করে চাউল বিতরন কাজ করা হয়। যার মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত না হওয়ায় তাদের চাউল অবশিষ্ট থেকে যায়। ১৩ জনকে না পেয়ে তখন ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে স্মারক নম্বর সহ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঐ ১৮ মার্চ লিখিত ভাবে জানান হয়। যাতে বলা হয় "১৩১ জনের ভিতরে ১৩ জন লোক চাউল নিতে আসেনাই সেখানে ৩০ কেজি বস্তা ৪টি ও ১০ কেজি লুজ চাউল"। এছাড়া মোবাইলে পিআইও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইউএনও মহোদয়কে জানান হয়। চাউলগুলো গ্রাম পুলিশ শামছুর রহমানের হেফাজতে তার (ভারঃ চেয়ারম্যান) অস্থায়ী কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ঈদের কারনে এবং গ্রাম পুলিশের অসুস্থতার কারনে সাথে সাথে চাউল বিতরন করা সম্ভব হয়নি। সোমবার (৩০ মার্চ) গ্রাম পুলিশ চাউল বিতরনের জন্য বাদপড়া ব্যক্তিদের খোজে বের হন। জানতে পেরে জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারী মাওঃ আঃ রশিদ, তরিকুল, জাকির, সাবেক মেম্বার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি এছমাইল হোসেনসহ অনেকে গ্রাম পুলিশকে অফিসের সামনে নিয়ে ঘর খুলতে বলেন। তখন তিনি (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) উপস্থিত হয়ে সকলকে জানান, তালিকাভুক্ত ১৩ জন বিতরনের সময় অনুপস্থিত ছিল, তাদের ১৩০ কেজি চাল অবশিষ্ট রয়েছে। কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারে তাদের মাঝে চাউল বিতরন করা হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চাউলগুলো পরিষদে আনা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তালিকাভুক্ত ৫ জনকে পাওয়া গেছে এবং তাদেরকে ৫০ কেজি চাউল দেয়া হয়েছে। এনিয়ে সোস্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ভাবমূর্তি ও সম্মান হানি করা হচ্ছে। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
গ্রাম পুলিশ শামছুর রহমান জানান, তালিকাভুক্ত ১৩ জনের অনুপস্থিতির কারনে উদ্বুত্ত চাউল আমার জিম্মায় ছিল। আজ ৫ জনকে বিতরন করা হয়েছে। বাকীদের খোজ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, ১৮ মার্চ ১৩ জনের অনুপস্থির কারনে উদ্বুত্ত ১৩০ কেজি চাউলের কথা লিখিত আকারে আমাকে ফরওয়ার্ড করা হয়। চাউল তালিকাভুক্তদের মাঝে বিতরন করতে হবে আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি।