রংপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার শিশুর হাম শনাক্ত হওয়ায় তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। একই সময়ে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে হাসপাতালে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে চার শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
চিকিৎসকরা জানান, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথমে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলেও পরে শরীরে র্যাশ বের হলে হাম নিশ্চিত হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশফাক বলেন, “হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।”
আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ জ্বরের পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। দিনাজপুরের এক অভিভাবক বলেন, “শুরুতে বুঝতেই পারিনি হাম। পরে র্যাশ বের হলে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেন।” বর্তমানে চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও বেশ কয়েকজন শিশু এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।
হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত তিন দিনে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে তাদের মধ্যে কেউ হামে আক্রান্ত ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে আইসিইউ বেড মাত্র ১০টি। হামে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের জন্য আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার ও হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।