কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গত ১৩/১৪ দিন ধরে বৃষ্টিতে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে রোপণকৃত বোরো ধান, ভুট্টাসহ শাকসবজির ক্ষতির কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকের। এছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে পাট বীজ বপনের জন্য জমি তৈরি করতে পারেননি অনেক কৃষক।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ার কারণে পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢ্যাঁড়স, কচুসহ বিভিন্ন সবজিসহ বোরো ধান ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়াও চৈত্র মাসে এতো পরিমাণ বৃষ্টি এর আগে কখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে পানিতে ভরে গেছে। পানি জমেছে বোরো ধান ও ভুট্টার খেতে। ফলে ঝড়ো হাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের জমির ভুট্টা মাটিতে হেলে পড়েছে। এবং বোরো ধানে মাজরা পোকার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে গমের চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর, ভুট্টা চাষ হয়েছে ১ হাজার ৭০ হেক্টর, সবজি চাষ হয়েছে ১হাজার ৭০ হেক্টর ও বোরো ধান চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ভুট্টা হেলে পড়েছে ৭ হেক্টর ও সবজি নষ্ট হয়েছে ২ হেক্টর জমি।
উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে ভূট্টার আবাদ করেছি। দীর্ঘদিন জমিতে পানি আটকে থাকার কারণে ঝড়ো হাওয়ায় ভুট্টার গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে। ফলে ওইসব ভুট্টা গাছ হতে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না।
এখানকার আরেক কৃষক কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, এমনিতে আলু উৎপাদনে ব্যয়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমরা প্রাপ্য মজুরি পাইনি। এর ওপর হঠাৎ ঝড়, শিলা ও টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের আরও উৎপাদিত বেগুন, পাট শাক, করলা, ঢ্যাঁড়স, বরবটিসহ বিভিন্ন ফসলের সঠিক মূল্য পাব না। এতে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়বেন।
অন্যদিকে, সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের ঝুকিয়া বিল এলাকার কৃষক সুররত আলী বলেন, এ বছর দীর্ঘদিন থেকে টানা বৃষ্টিতে ধান খেতে হাটু পানি আটকে আছে। আমার আটাশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করছি।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে তো আমাদের কারো হাত নেই। আমরা কৃষকের এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায় কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়াও বিনামুল্যে ২৭০ জন কৃষকে পাট বীজ ও ৫০০ জন কৃষককে আউস ধানের বীজ প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন প্রনোদনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।