লেংটার মেলায় মাদকের ছড়াছড়ি, অনুমতি দেয়নি প্রশাসন

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
লেংটার মেলায় মাদকের ছড়াছড়ি, অনুমতি দেয়নি প্রশাসন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলি বদরপুরে শুরু হয়েছে সোলেমান শাহ (রহ.) সোলেমান লেংটার মাজারের বাৎসরিক ওরশ ও মেলা। চৈত্র মাসের ১৭ তারিখ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও  স্থানীয়ভাবে শুরু হয়ে যায় লেংটা মাজারের ভক্তদের এই মেলা। যার ব্যাপকতায় এক শ্রেণীর পাগলের সমাগম হয় এবং এতে ছড়িয়ে পড়ে গাঁজা মাদকের বিকিনিকি।

এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মেলার অনুমোদন দেয়া হয়নি। বিগত বছর গুলোতে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবার প্রশাসন অনুমোদন দেয়নি বলে জানা যায়।  উল্লেখ গাঁজার দোকান, জুয়া, চাঁদাবাজি এবং অশ্লীলতার অভিযোগে এনে করে কয়েকটি সংগঠন মেলা বন্ধ রাখার দাবিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করে। মেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মেলার টাকার ভাগভাটোরা ও মাদকের বিরোধিতা করায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পাওয়া যায়।  সংঘর্ষে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া আহত হয়।

এলাকা সূত্রে জানা যায় , মাজারকে কেন্দ্র করে  প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে মেলার এই বিস্তৃতি। পুরো এলাকা জুড়ে বিভিন্ন দোকানপাট সাজিয়ে বসানো হয়েছে।  সোলেমান লেংটার মাজারের আশপাশে তার অনুসারীদের অন্তত ১৮ থেকে ২০টি মাজার ঘর এবং প্রায় দুই শতাধিক খানকা বা ভক্তদের আস্তানা রয়েছে। এসব স্থানে লেংটা ভক্ত নারী-পুরুষ একসঙ্গে শরিয়তি মারফতি গান-বাজনার সঙ্গে নাচানাচিতে অংশ নেয়। অনেক ক্ষেত্রে তা অশ্লীলতায়ও রুপ নেয়।এই ওরশ ও মেলাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাগলের বেশ সমাগম ঘটে।  মেলায় গাঁজার দোকান বসিয়ে প্রকাশ্যে ক্রয়-বিক্রয় এবং মাদক সেবন যেন ওপেন সিক্রেট।  গাঁজার দোকান, আফিমসহ বিভিন্ন মাদকের পসরা সাজিয়ে বিক্রি হচ্ছে। সারা দেশ থেকে ছুটে আসেন নেশাখোরেরা । এ ছাড়া মেলার কয়েকটি এলাকায় নারীদের অশ্লীল নৃত্যের জমজমাট আসরও হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ মেলাকে মাদকের স্বর্গরাজ্য বলা হয়ে থাকে। এদিকে মাদক বিক্রিতা ও সেবনকারীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  সচেতন মহল জানান, লেংটার মেলার নামে এখানে যেভাবে দিন-রাতে মাদক ও অশ্লীল নাচগানের আসর বসবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। মেলা এলাকার শতাধিক স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের জমজমাট আড্ডা চলবে। এতে মেলা ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। নেশাগ্রস্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়ছে এলাকার কিশোর-তরুণেরা। নষ্ট হবে সামাজিক পরিবেশ। ওপরে চলবে মেলা আর ভেতরে চলছে লাখ লাখ টাকার মাদকের ব্যবসা। প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি এই মেলাকে কেন্দ্র করে কোন রকমের মাদক, জুয়া, নারী ব্যাবসা না হয় সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘মেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী অর্ধশত পুলিশ সদস্য এবং সিভিল পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যই এখানে কাজ করছে।’  মাদক ও জুয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলবের সোলেমান লেংটার মেলা অনেক বড় এবং বিশাল আকৃতির মেলা। জেলা প্রশাসন থেকে এখনো এই মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন পেলে এই মেলার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আইনশৃঙ্খলা সভাকরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে ভূমিকা রাখা হবে।’

উল্লেখ্য, পীর ও সাধক হজরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মারা যান। এরপর প্রতিবছর তাঁর মাজার এলাকায় চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে ওই মাজারের খাদেম, আশেকানরা মেলা ও বার্ষিক ওরশের আয়োজন করেন। স্থানীয়ভাবে মেলাটি লেংটার মেলা নামে পরিচিত।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে