হাইমচরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, একাধিক স্থানে দুর্র্ধষ চুরি

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
হাইমচরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, একাধিক স্থানে দুর্র্ধষ চুরি

চাঁদপুরের হাইমচরের চরভৈরবী ইউনিয়নে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জসিমের দোকান থেকে টমটম ব্রিজ ও রহমান সরদার বাড়ি হতে টমটম ব্রিজ পর্যন্ত এলাকাটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মাদকের টাকার জোগান দিতে এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি, যার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জসিমের দোকান ও রহমান সরদার বাড়ি সংলগ্ন পূর্ব পাশে জনশূন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুপারি বাগানগুলোতে দিন-রাত চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। বাগানের ভেতর মাদক সেবনের অসংখ্য আলামত ও সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। বহিরাগত মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের অবাধ যাতায়াতে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মাদকসেবীদের এই বেপরোয়া আচরণের বলি হচ্ছেন সাধারণ গৃহস্থ ও কৃষকরা। গত কয়েক দিনে এলাকায় বেশ কয়েকটি দুর্র্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গতকাল দৈনিক কালবেলার হাইমচর প্রতিনিধি শিমুল অধিকারী সুমনের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র ঘরের পাটাতন থেকে প্রায় ৩ মণ শুকনো সুপারি এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সাংবাদিক শিমুল অধিকারী বলেন,"মাদকসেবীরা ওত পেতে থেকে সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষের ঘরে হানা দিচ্ছে। তাদের কারণে এখন নিজের ঘরেও নিরাপত্তা নেই।" এর আগে ওই এলাকার নিরপতি শীল ও দীপংকর মজুমদারের ঘরের পাটাতন থেকেও একইভাবে শুকনো সুপারি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চোরদের প্রধান টার্গেট এখন কৃষকের কষ্টার্জিত শুকনো সুপারি। তারা জানান, নেশার টাকার জন্য মাদকসেবীরা এখন শুধু টাকা বা মোবাইল নয়, হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে ঘরের পাটাতনে রাখা সুপারিও নিয়ে যাচ্ছে। পথের ধারের বাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, "দিনের বেলায় ভয়ে কোথাও যেতে পারি না, আর রাতে চোর-মাদকসেবীদের আতঙ্কে ঘুম আসে না।" এ বিষয়ে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, মাদক ও চুরির বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং মাদকের এই মরণ ছোবল থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চরভৈরবী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে