মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২জন আহত হয়েছেন,এই ঘটনায় আতংকিত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আহতরা তারা হলেন, মিসকাত (৫৩), মানিক মিয়া (৭৮), জোসনা বেগম (৫০), রিমন (২০), মাজহারুল ইসলাম (১৭), ইউসুফ শেখ (৬১), অন্তর (২২), ইকদাদুল ( ৩৭), মোতালেব (৮০), হাইজুল (৩৮), আমির আলী (৬০) ও বাদল মিয়া (৪৯)। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বড় ভাটেরচর পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মারুফ ও সৌরভকে মারধর করে মধ্য পাড়ার একদল যুবক। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুক্রবার বিকেলে গজারিয়া থানার এসআই ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে গ্রামে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ যখন তদন্ত করছিল তখন বাদী পক্ষের কয়েকজন স্বজনও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তদন্ত চলাকালীন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাদী ও বিবাদী পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২জন আহত হন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষে আহত ৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে টেংগারচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শেখ ইউসুফ বলেন,আমরা পারিবারিক ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত,এক ভাই মোতালেব শেখ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি,ভাতিজা চঞ্চল শেখ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, শেখ মো. সুলতান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক অপর পক্ষ স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত,তাদের বাড়ির উপর দিয়ে আমাদের যেতে হয়,আজ সকাল থেকেই তাঁরা সড়ক অব রোধ করে বসে আছে আমরা কেউ যেতে পারছিনা। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন,"বড় ভাটেরচরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,এ বিষয়ে কেউ আতংকিত হলে আমাদের জানালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।