প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে মিড-ডে মিল, বদলে গেছে স্কুলের চিত্র

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৫ এএম
প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে মিড-ডে মিল, বদলে গেছে স্কুলের চিত্র

সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং উপস্থিতি বাড়াতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজ। কোনো সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে ২০১৭ সাল থেকে তিনি নিজস্ব ও পারিবারিক অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। এদিনের মেনু ছিল সিদ্ধ ডিম ও বনরুটি। প্রধান শিক্ষক জানান, সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে সবজি খিচুড়ি, ডিম-খিচুড়ি, মাংস, কলা ও পাউরুটিও দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা বানু, শামসুন্নাহার, ছাবিরা আক্তারসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচি চালুর আগে শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১৬০ জন শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশই অসচ্ছল পরিবারের। খাবারের আকর্ষণে এবং পুষ্টির নিশ্চয়তা পাওয়ায় এখন তারা নিয়মিত স্কুলে আসছে।

শিরিনা সুলতানা নামের একজন অভিভাবক বলেন, “আগে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চাইত না। এখন খাবারের লোভে হলেও নিয়মিত যায়। এতে ওদের পড়াশোনাতেও আগ্রহ বেড়েছে।” সহকারী শিক্ষকরা জানান, এই উদ্যোগের ফলে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত। এই মানবিক উদ্যোগে প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজকে নিয়মিত সহযোগিতা করছেন তাঁর বড় ভাই ডা. মেহেদী নেওয়াজ। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে কর্মরত। প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু পুষ্টি দেওয়া নয়; আমরা চাই শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসুক এবং স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠুক। এই ছোট্ট উদ্যোগ তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে খাবারের তালিকায় আরও বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা আছে আমাদের।”

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, “দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকারি সহায়তার মুখাপেক্ষী না থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর এই মমত্ববোধ ও একাগ্রতা অন্য শিক্ষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। এই কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়টিতে উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষার গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। আমরা চাই এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক।” উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সমপ্রতি জানিয়েছেন যে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ইতোমধ্যে সরকারিভাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে দক্ষিণ কাটিয়া স্কুলের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ স্থানীয় সচেতন মহলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁদের মতে, এমন উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে সারা দেশের জন্য একটি মডেল হতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে