জ্বালানি সংকট

দূরদর্শী পরিকল্পনা জরুরি

এফএনএস
| আপডেট: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
দূরদর্শী পরিকল্পনা জরুরি

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পাম্পে দীর্ঘ সারি, চালকদের অসহিষ্ণু আচরণ, সংঘাত-সংঘর্ষ এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। কৃষি খাতে বোরো জমির সেচ, শিল্পকারখানার উৎপাদন, পরিবহন- সবখানেই হাহাকার। সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু অসাধু ব্যক্তি, যারা তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুদ উদ্ধারও হয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ বৈশ্বিক। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে, আবার চাহিদামতো তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি কত দিন চলবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। ফলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন। সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। স্কুলে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস চালু করা হয়েছে, যাতে পরিবহন খরচ কমে। ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ থাকে। অফিস সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। দোকানপাট, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। সরকারি ব্যয় কমাতে আগামী তিন মাস কোনো নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান বা কম্পিউটারসামগ্রী ক্রয় করা হবে না। বিবাহ বা উৎসব উপলক্ষে আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফুয়েল কার্ড চালু হলে অপব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে মজুদ করে বিক্রির প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। অতীতে চাল, চিনি বা ডালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। তাই সরকারকে কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে, আর সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয় মজুদ থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা মনে করি, সংকটের কারণ বা সমাধান পুরোপুরি আমাদের হাতে নেই। তবে সংকটের প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। সরকারি পদক্ষেপগুলোকে সফল করতে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। জ্বালানি ব্যবহারে প্রত্যেককে সাধ্যমতো মিতব্যয়ী হতে হবে। এই সংকট আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বৈশ্বিক রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও দায়িত্বশীলতার ওপরও নির্ভর করে। তাই এখনই সময় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের- বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অন্যথায় প্রতিটি বৈশ্বিক অস্থিরতা আমাদের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং দূরদর্শী পরিকল্পনা- এই তিনটি পথেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা সম্ভব। সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে এই সংকট সাময়িক দুর্ভোগে সীমাবদ্ধ থাকবে, স্থায়ী বিপর্যয়ে নয়।