রাজশাহীতে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ হুমকি ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
রাজশাহীতে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ হুমকি ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বড়কুঠি এলাকায় ‘প্রথম রাজশাহী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ চলাকালীন এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। বিবৃতিতে লেখক ও অধিকারকর্মী মোঃ শামীউল আলীম শাওন এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. রবিন শেখ বলেন, জনসমক্ষে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া এবং দালিলিক প্রমাণ নষ্ট করতে সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল। তারা মনে করেন, এটি সরাসরি নাগরিক মর্যাদা ও মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। ঘটনার ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও ‘সেকেন্ডারি ভিক্টিমাইজেশন’-এর মাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতিকার পেতে থানায় গেলে সেখানে তাকে সহযোগিতার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাবে পুনরায় জেরা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, একজন ভুক্তভোগীকে থানায় গিয়ে যদি পুনরায় লাঞ্ছিত হতে হয়, তবে সেটি সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণ নাগরিক আস্থা ও আইনের শাসনের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দেয়। বড়কুঠি ও পদ্মাপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা তথাকথিত ‘সাঁকো সিন্ডিকেট’ এবং অবৈধ পার্কিং কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির রাজত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত ও তার সহযোগীরা সেই কাঠামোগত অপরাধেরই বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের সিন্ডিকেট যদি প্রশাসনের নাকের ডগায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়, তবে তা জননিরাপত্তার জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী অশনিসংকেত। এই অপরাধসমূহ বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ সিডও (ঈঊউঅড) এবং আইসিসিপিআর (ওঈঈচজ) অনুযায়ী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক বাধ্যবাধকতা। এখানে রাষ্ট্রের ‘প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও বিচার’ নিশ্চিত করার নৈতিক অবস্থান চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেতৃবৃন্দ ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো-প্রধান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্তসহ এজাহারভুক্ত সকল অপরাধীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা; সংবাদকর্মীর ওপর হামলার বিচার ও ডিজিটাল তথ্য (ভিডিও) পুনরুদ্ধার করে অপরাধীদের দালিলিক প্রমাণ নিশ্চিত করা; বড়কুঠি ও পদ্মাপাড় এলাকাকে সকল প্রকার চাঁদাবাজ ও ‘সাঁকো সিন্ডিকেট’ মুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ‘পাবলিক স্পেস’ হিসেবে নিশ্চিত করা; থানায় ভুক্তভোগীকে হেনস্তাকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সাক্ষীদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যেন কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা বিশেষ পরিচয় থাকতে পারে না; তার একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আইনের শাসনের প্রধান অন্তরায়। প্রশাসন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজশাহীর সচেতন নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী এবং পেশাদার সংবাদকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে