দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি কেবিনেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত সবচেয়ে বেশি। প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সংরক্ষিত আছে। পাশাপাশি অকটেন রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টন এবং পেট্রোল রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টন। তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা সম্ভাব্য সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছি।”
জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে বলেন, “গত এক মাসে অভিযানে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে।”
তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের একটি নিয়ম রয়েছে, যা প্রতি মাসে পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশেই একমাত্র জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এদিকে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এপ্রিলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল আমদানি করা হবে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই সতর্ক অবস্থান জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।