খুলনার পাইকগাছায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের বসতঘর। একদিকে সরকারি জমি উদ্ধারের তৎপরতা, অন্যদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অসহায় মানুষের আর্তনাদ। সব মিলিয়ে এদিন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় উপজেলার বাতিখালী এলাকায়। উচ্ছেদ অভিযানের চালচিত্র সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে পাউবো কর্তৃপক্ষ। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী উপস্থিত থেকে অভিযানের নেতৃত্ব দেন। পাউবোর সীমানা প্রাচীরের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি চোখের পলকেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। "কোথায় যাব আমরা?"-ক্ষতিগ্রস্তদের হাহাকার অভিযান চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুদের কান্নায় বাতিখালী গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। হঠাৎ ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে-মুখে ছিল শুধুই অনিশ্চয়তা। উচ্ছেদ হওয়া অনেকেই দাবি করেন, তারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই ভিটায় বসবাস করছেন। মুহূর্তের মধ্যে সাজানো সংসার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জমির মালিকানা ও নোটিশ নিয়ে পাল্টা দাবি উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত তারক চন্দ্র সানা অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের কোনো আগাম নোটিশ না দিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বাতিখালী মৌজার ২৬৯ খতিয়ানের ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৭ দাগে আমাদের ৫ জনের সাড়ে ৬২ শতক নিজস্ব জমি রয়েছে। আমাদের নামে রেকর্ড আছে, খাজনা দাখিলাও পরিশোধ করা আছে। এমনকি এই জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।" তাদের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন জানান, পাউবোর সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দখলদারদের এর আগে দুই দফা লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আইনি সমস্ত প্রক্রিয়া মেনেই জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ অভিযান চলাকালে পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত বিন রফিক, আরডিসিও আরিফুজ্জামান আরিফ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিয়াজুল আজাদসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি জমি উদ্ধার হলেও, আদালতের বিচারাধীন জমি দাবি করা পরিবারগুলো এখন কোথায় আশ্রয় নেবে-সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকগাছার স্থানীয় জনমনে।