সরাসরি সম্প্রচার বিটিভিতে

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬ আসামি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এদিন রায় ঘোষণার আগে গ্রেফতার ছয় আসামিকে কারাগার থেকে এনে হাজির করা হয়েছে। রায়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে, জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবে। এর আগে গত ৫ মার্চ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের সেই ঘটনা, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২৪ জুন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই বছরের ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৩ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে অন্যতম সাক্ষী ছিলেন জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

বর্তমানে ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরাও। তার ভাই আবুল হোসেন বলেন, “আমরা চাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। যারা সরাসরি জড়িত, তাদের ফাঁসির রায় প্রত্যাশা করি।” আরেক ভাই রমজান আলী বলেন, “আমরা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার চেয়েছি। এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, বরং একটি সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে