পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা প্রায় একদিন ধরে চলা উভয় দেশের শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতা হয়নি। ফলে কোনও চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল দেশে ফিরছে।
ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি, সেটাই আলোচনার টেবিলে আদায় করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও দূরে থাকায় চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে আছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে ‘যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, তার সবকিছুই আদায় করতে চেয়েছে’ বলে ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে। এমন তথ্য দিয়েছে ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স।সূত্রটি জানায়, ‘হরমুজ প্রণালি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি এবং আরও কয়েকটি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্ত ইরান মেনে নেয়নি’।
ফার্স বার্তাসংস্থা আরও বলেছে, কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘অযৌক্তিক দাবি’ পরিবর্তন করে কি না তার ওপর। এছাড়া হরমুজ প্রণালি এখনও অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞরা সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে কাজ করছেন এবং ‘পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে ও দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আনতে চেষ্টা করছে।’এছাড়া আলোচনায় অংশ নেয়া দুই পক্ষই প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে পরামর্শ করতে সাময়িক বিরতি নিয়েছে। খসড়া প্রস্তুত হলে আবার আলোচনা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবির’ কারণে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনও কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে শেষ হয়েছে। তারা বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় ছিল দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের প্রধান কারণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কোনও চুক্তি ছাড়াই তারা দেশে ফিরছেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান এবং তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তার’ প্রশংসা করেন।ভ্যান্স বলেন, ‘আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই চেষ্টা করেছে। আমরা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং ইরানিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা ভালো দিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘খারাপ খবর হলো আমরা কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি এবং আমি মনে করি এটা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর। তাই আমরা কোনও চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছি। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ কী, কোন বিষয়ে ছাড় দিতে পারি আর কোন বিষয়ে পারি না- সবই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি।’
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ইরান কী প্রত্যাখ্যান করেছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান্স বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।
তিনি বলেন, ‘সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা একটি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনও সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টাও করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা এই আলোচনার মাধ্যমে সেটাই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।’