পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের প্রতি যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে উভয় পক্ষের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
এক বিবৃতিতে আজ রোববার ইসহাক দার জানান, ‘আমরা আশা করি উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাতে সমগ্র অঞ্চল এবং এর বাইরেও স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়।’এসময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এবং সম্পৃক্ততা বাড়াতে পাকিস্তান আগামী দিনগুলোতেও তার সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়ায় উভয় দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় পক্ষই তাদের ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে ‘যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, তার সবকিছুই আদায় করতে চেয়েছে’ বলে ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে। এমন তথ্য দিয়েছে ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স।সূত্রটি জানায়, ‘হরমুজ প্রণালি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি এবং আরও কয়েকটি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্ত ইরান মেনে নেয়নি’।
ফার্স বার্তাসংস্থা আরও বলেছে, কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘অযৌক্তিক দাবি’ পরিবর্তন করে কি না তার ওপর। এছাড়া হরমুজ প্রণালি এখনও অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞরা সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে কাজ করছেন এবং ‘পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে ও দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আনতে চেষ্টা করছে।’এছাড়া আলোচনায় অংশ নেয়া দুই পক্ষই প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে পরামর্শ করতে সাময়িক বিরতি নিয়েছে। খসড়া প্রস্তুত হলে আবার আলোচনা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবির’ কারণে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনও কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে শেষ হয়েছে। তারা বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় ছিল দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের প্রধান কারণ।’