১০ দিন পর দেশে আসলো প্রবাসী রুহুল আমিনের লাশ

এফএনএস (ফারুক আহমেদ; মেহেরপুর) : | প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
১০ দিন পর দেশে আসলো প্রবাসী রুহুল আমিনের লাশ

পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আর সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রায় ৩ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মো: রুহুল আমিন(৩৮)।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেই প্রবাসী টাকার মেশিনটা কাজ করতে গিয়ে সেখানে মাটিচাপা পড়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।মৃত্যুর ১০ দিন পর মালেশিয়া থেকে দেশে আসে তাঁর নিথর দেহ।আগামী কোরবানির ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার।তবে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে নিজ পরিবারে ফিরতে হলো তাকে।পরিবারের লোকজন শেষবারের মতো কফিনে করে তার লাশ নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন।লাশ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর এক পলক দেখার জন্য ছুটে আসেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ।চারিদিকে নেমে আসে সুখের ছায়া।বাকরুদ্ধ স্ত্রী,সন্তানসহ পরিবারের সবাই।

নিহত মো: রুহুল আমিন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর পুকুরপাড়া গ্রামের মৃত মো: বয়েন উদ্দিনের ছেলে। রোববার সকাল ৯  টার সময় তাঁর লাশ নিজগ্রাম দেবীপুর পুকুরপাড়া এসে পৌঁছায়।সকাল ১১ জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।রুহুল আমিন মালেশিয়ার জহুর বারু পাহাং এ কাজ করা অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ ফিট মাটির নীচে  চাপা পড়ে ঘটনা স্থানেই মারা যান।

স্থানীয়রা জানান,অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আনতে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছিল রুহুল আমিন।দীর্ঘ ১০ দিন পর প্রবাস থেকে তাঁর লাশ আসে নিজ বাড়িতে। নিহত রুহুল আমিনের মেজ মেয়ে রুনা লায়লা বলেন,   আমার বাবা আমাদের সবাইকে এতিম করে চলে গেল।এখন আমরা কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।আমরা দুই বোন এক ভাই।এখন মা ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।বাবা কোরবানির ঈদে ছুটিতে আসতো।তার আগে বাবার লাশ আসলো  বাড়িতে।আমার বাবা ২৫ থেকে ৩০ ফুট মাটির নীচে ড্রেনের কাজ করছিল।দুইজন উপরে ওঠে আসে। আমার বাবা দুই ধাপ উপরে উঠতেই মাটি ধ্বসে চাপা পড়ে মারা যায়।  নিহত রুহুল আমিনের বড় ভাইয়ের ছেলে ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার চাচা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন।মাটির নীচে ড্রেনের কাজ করছিল।কাজ শেষ করে উপরে উঠার সময় মাটি ধ্বসে চাপা পড়ে মারা যায়। চাচার সহকর্মীদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রেখেছিলাম তারা দ্রুত লাশ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।এজন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। নিহত রুহুল আমিনের বড় ভাই বজলুর রহমান  বলেন, আমার ভাই পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন।আমি বড় অথচ সে আমার ছোট ভাই।আমার আগেই সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেল।তার স্ত্রী,দুই মেয়ে ও এক শিশু সন্তান রয়েছে।তাদের নিয়ে কি করব বুঝতে পারছি না।দশ দিন আগে প্রবাসে কাজ করা অবস্থায় মাটির নীচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।আজকে তার লাশ পৌঁছালো নিজ গ্রামের বাড়িতে।

গোরখোদক মো: ফারুক হোসেন বলেন, দশ দিন আগে রুহুল আমিন মালয়েশিয়ায় মারা যায়।তার লাশ আজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।আমাদের কবর খোড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।১১ টার সময় জানাযা শেষে তার দাফন করা হয়। বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম জানান, নিহত রুহুল আমিনের মৃত্যুতে গভীর প্রকাশ করছি।তাকে দ্রুত দেশে আনার জন্য যে সকল কাগজপত্র লেগেছে সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সব ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম।এছাড়া আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, তার পরিবারের লোকজন  বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আসলে সরকারি যে সুবিধা পাওয়ার কথা সেগুলোর ব্যাপারে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে