সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত, বনদস্যু দমন এবং মৎস্য ও বনজসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত দেড় বছরে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ জন সদস্যকে আটক, ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধারসহ ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ একাধিক দস্যু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোস্ট গার্ড সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। -^রাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সরাসরি নির্দেশনায় এ সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে "অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন" এবং "অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড" নামে দুটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সমগ্র সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী,র্ যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সং-’ার সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল ও সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও -’ানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে। সুন্দরবন সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।