পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ

সুবিধা নিশ্চিতে ঝুঁকি মোকাবিলা জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
সুবিধা নিশ্চিতে ঝুঁকি মোকাবিলা জরুরি

দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সমপ্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (চধুঢ়ধষ) চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের দাবি ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর। নানা সময়ে আলোচনা হলেও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পেপ্যাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। পেপ্যাল চালু হলে ফ্রিল্যান্সাররা সহজে ও নিরাপদে তাদের আয় দেশে আনতে পারবেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, কর্মসংস্থান প্রসারিত হবে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ই-কমার্স, স্টার্টআপ ও অনলাইন ব্যবসায় লেনদেন সহজ হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দুই লক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান এবং উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ পেপ্যাল ব্যবহারের ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করবে। তবে সুবিধার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং, অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ও সাইবার জালিয়াতির আশঙ্কা বাড়তে পারে। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকলে আর্থিক খাত অস্থিতিশীল হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের জটিলতা বা উচ্চ শুল্ক থাকলে ব্যবহারকারীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাবেন না। তবে এর সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারীদের আস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন বলে বিভিন্ন সংস্থার হিসাব। তাদের আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণে জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। পেপ্যাল চালু হলে এ সমস্যার বড় সমাধান হবে। তাই পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য আশার আলো। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নীতিগত স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের আস্থার ওপর। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, যেন ফ্রিল্যান্সাররা সহজে অর্থ গ্রহণ করতে পারেন এবং একই সঙ্গে অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে শক্তিশালী ব্যবস্থা থাকে।