রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মিলনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অগণতান্ত্রিকভাবে পরিষদ পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৭ জন ইউপি সদস্য রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ আইদের যাবতীয় বিধি বিধান উপেক্ষা করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান এককভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে প্রকল্প প্রনয়ন করেন। কোনো কাজ না করে যেনতেনভাবে কাগজে কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। ইউপি সদস্যদের প্রাপ্য বেতন ভাতা ৩ বছর যাবত প্রদান করেননি। ভূয়া প্রকল্প বাস্তাবায়ন দেখিয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ আরও বিভিন্ন অনিয়ম দুনীতির কারনে পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণ কল্যানে কোন কার্য সম্পাদন করিতে পারছেননা। ইউপি চেয়ারম্যান যেসব ভুয়া প্রকল্প প্রননয়ন করে এককভাবে বাস্তবায়ন ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে- মিলনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলাধুলার সামগ্রি বিতরণ। ১% পারসেন, অর্থ বছর ২০২০-২০২৪ বরাদ্দ ১, ২৮,০০০ টাকা, উত্তোলনের তারিখ ২১/১১/২০২২ইং, চেক নং ৮৪৯৬৩৭৯, ১ ও ২ নং প্রকল্প দুইটি। মিলনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলাধুলার সামগ্রি বিতরণ। ১%, বরাদ্দ টাকা ১,২৭,০০০ টাকা, উত্তোলনের তারিখ ১১/০৯/২০২৩ইং, মিলনপুর ইউনিয়নের নিধিরামপুর গ্রামের খালেকের বাড়ি হইতে বড় রোড পর্যন্ত পাইপ ড্রেন নির্মান ১% বরাদ্দ ১,১৯,৭২০টাকা, উত্তোলনের তারিখ ০৮/০৩/২০২৪ইং, চেক নং-১০৭৬৪৮০৮-৩৭-৩৮। ০৯ নং ওয়ার্ডের সন্তোষপুর মৌজার বকখোটা রোস্তম আলীর বাড়ী হতে রবিউল এর বাড়ী পর্যন্ত সারফ্রেন্স ড্রেন নির্মান ১% বরাদ্দ ১,৪০,৫৭৫ টাকা উত্তোলনের তারিখঃ ২২/১২/২০২২ইং, চেক নং: ৮৪৯৬০৮০। জানকীপুর মৌজার রফিকুলের বাড়ী হইতে নদী পর্যন্ত সারফ্রেজ ড্রেন নির্মান ১% বরাদ্দ ১,৩৮,৬০৫ টাকা, উত্তোলদের তারিখ ৫/৩/২০২০, চেক নং ১০৭৬৪৮৩১ উত্তোলনের তারিখ ৭/৬/২০২৩, চেক নং- ১০৭৬৪৮৩২, মিলনপুর মৌজার প্রাইমারী স্কুল
হইতে মাদ্রাসার রোড পর্যন্ত ব্যাটস ফিলিং ১% বরাদ্দ ১,১৫,৬২০/- অর্থ বছর ২০২০-২০২৪ইং, ০৪ নং ওয়ার্ডের তরফসাদী মৌজার জামে মসজিত হয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ইটের সলিং বরাদ্দ ৮,২২,০০০/- প্রকল্পের নাম উন্নয়ন সহায়তা, তহবিল প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে টাকা উত্তোলন। ৮। হাট-বাজার ৬,০০,০০০ টাকা। ০৭ নং ওয়ার্ডের মানিকবেড়া মৌজার আফজালের বাড়ী যতে মসজিদ পর্যন্ত সারফ্রেজ ড্রেন নির্মান ১% বয়ান্দ-২,৮৭,০০০/- টাকা। মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাচীর নির্মান ১% বরাদ্দ ৯৮,০০০ টাকা দিয়ে প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ। ৩ নং ওয়ার্ডের মিলনপুর মৌজার দক্ষিনপাড়া শ্মশান ঘাট নির্মান টি.আর ও. এডিপি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প দেখিয়া অর্থ আত্মাসাৎ করেন। গোপালপুর হাট বাজার এমাদাদুলের দোকান হতে পশ্চিম পার্শ্বে পাইপ ড্রেন নির্মান বরাদ্দ ২ লক্ষ টাকা, অর্থ বছর
২০২৪- ২৫ প্রকল্প দেখিয়া অর্থ আত্মসাৎ করেন। মিলনপুর ইউনিয়নের স্কুল মাঠ হতে পাকা রাজা পর্যন্ত কাবিটা প্রকল্প ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প দিয়ে কাজ করেন ব্যাটস ফিলিং। পূনরায়, হাট-বাজার ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের ২লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখিয়া অর্থ আত্মাসাৎ করেন। ০১ নং ওয়ার্ডের সাত আনী রাঘবেন্দ্রপুর মৌজার সুজনের বাড়ীর পাশে সারফ্রেজ ড্রেনের কাছ হতে সঞ্চয়ের বাড়ী পর্যন্ত সারফ্রেজ ড্রেন নির্মান উন্নয়ন সহায়তা তহবিল বরাদ্দ ৯৮,০০০/- টাকা। অর্থ বছর ২০২৪-২৫। ০২ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর মৌজার মনতাজের বাড়ী হতে মওফুলের বাড়ী পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তা তহবিল কাজ না করে ৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। অর্থ বছর ২০২৪-২৫। উল্লেখিত এসব প্রকল্প বাস্তাবায়নের পূর্বে পরিষদের কোন রেজুলেশন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হাইনি। ইউনিয়ন পরিষদে গত ১৪/০৭/২০২৬ইং তারিখে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিটিংয়ে চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান, ইউপি সচিব এবং ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য/সদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মাধ্যে জামায়াত প্রতিনিধি জনাব মোঃ মনোয়ার হোসেন ও মোঃ হাবিবুর রহমান এবং বিএনপি জনাব মোঃ মোদাচ্ছির হোসেন (লাবলু) উপস্থিত ছিলেন। সভার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সাথে সভায় উপস্থিত সকলের সামনে ঘোষনা করেন যে- 'আমি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাত্র ৩ জন মেম্বার নিয়ে পরিষদ চালিয়ছি। বর্তমানেও আমি সকল সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে মাত্র ৩ জন মেম্বার নিয়েই পরিষদ পরিচালনা করব।' চেয়ারম্যানের এই ঘোষণা সরাসরি 'স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯' এর পরিপন্থী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক অধিকারের চরম্ লঙ্ঘন।
তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত তোয়াক্কা করেন না এবং পরিষদে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চান। তার এই অগণতান্ত্রিক মানসিকতা এবং পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রবণতা পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। উপরোক্ত ভূয়াপ্রকল্প প্রণয়ন নানারুপ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদটির চেয়ারম্যান সাহেবের কারনে স্থানীয় জনগনের জন স্বার্থে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণের জন্য ৭ ইউপি সদস্য রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্রী সনজিৎ কুমার, ৮ নং সদস্য মোঃ নুর ইসলাম, ৯ নং সদস্য সাহলাম মিয়া, ৬ নং সদস্য শাহাদৎ হোসেন, ৫ নং সদস্য ফুলবাবু মিয়া, সংরক্ষিত ৪,৫, ৬ নং সদস্য আল্পনা আক্তার, ৭,৮ ৯ নং মাজেদা বেগম। তারা অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেন। এ ব্যাপারে মিলনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করল তাকে পাওয়া যায়নি।