খুলনা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার রাতে প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে তিনি ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২০-২৫ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তবে, পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন, রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান। এদিকে, খুলনা প্রেস ক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার এবং নেপথ্যের ইন্দনদাতাদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। বাদী তার এজাহারের উল্লেখ করেন, গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬ টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী বেআইনিভাবে দেশি অস্ত্রসহ অনাধিকারে খুলনা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের মারপিট করে। এ ঘটনায় তিনি রাতে উল্লিখিত ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে ২০-২৫জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার এসআই বিশ্বজিৎ বসু জানান, রাতভর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু আসামিদের কাউকে এ পর্যন্ত আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। তা দেখে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছি। রাতভর তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশে সিসি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলা হয়, এ ধরণের ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেনি। তবে, গত দুই যুগে খুলনার ৪জন সাংবাদিক দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হন। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আজকের প্রজন্ম আর দেখতে চায় না। সোমবার প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ দাবি করেন।
প্রেসক্লাব আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাবে এসে সভাপতি প্রার্থী ও প্রবর্তন সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ারকে খোঁজাখুজি ও হুমকি, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সময়ের খবরের সম্পাদক তরিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করায় নির্বাচন হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনা পরিকল্পিত। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে সিসি টিভি ফুটেজ থেকে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। তারা স্থানীয় সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক চন্দ্র সাহা, হারুনর রশিদ খোকন ও শেখ বেলাল উদ্দীনের হত্যার নিন্দা এবং সাংবাদিকতায় তাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যারা প্রেসক্লাবে অনধিকার প্রবেশ করে সাংবাদিকদের হুমকি ও হামলা চালিয়েছে তাদের পাশাপাশি নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করতে হবে। কারা তাদের প্রেস ক্লাবে পাঠিয়েছিল তা জাতি জানতে চায়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান এনামুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন রফিউল ইসলাম টুটুল, শেখ দিদারুল আলম, এস এম হাবিব, মোতাহার রহমান বাবু, মোস্তফা সরোয়ার, এস এম জাহিদ হোসেন, এহতেশামুল হক শাওন, আশরাফুল ইসলাম নূর, হাসান আহমেদ মোল্লা, হাসান হিমালয়, বশির হোসেন, হেদায়েত হোসেন মোল্লা, মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, কামরুল আহসান, মহেন্দ্রনাথ সেন, মাহাবুবুর রহমান মুন্না, বেলাল হোসেন সজল, আব্দুর রাজ্জাক রানা প্রমুখ। মানববন্ধন চলাকালে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সমাবেশে বিএনপি নেতা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আরিফুজ্জামান অপু, শমসের আলী মিন্টু, জামাল মোড়ল, সরদার আবু তাহের, ইসলামী আন্দোলনের মো: নাসির উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সংবাদকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা সকলে জানায়, প্রেসক্লাবের মতো একটি নিরাপদ স্থানে হামলা, কখনও তা মেনে নেওয়া যায়না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কাছে আহবান জানান। উল্লেখ্য, রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে সভাপাতি প্রার্থী সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে ডাকাডাকি ও গালিগালাজ করতে থাকে। তখন এখন টেলিভিশন খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তার ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।