তালতলীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা

এফএনএস (মোঃ আব্দুল মোতালিব; তালতলী, বরগুনা) : | প্রকাশ: ৪ মে, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
তালতলীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা

বরগুনার তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রবিবার গণিত পরীক্ষায় তালতলী এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের পূর্ব সওদাগর পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম খানের কন্যা মোসাম্মৎ নাইমা তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে নিয়মিত ভাবে তালতলী কেন্দ্রের ৪ নং হলে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আসছে। যার রোল: ২০৯৫৬৭, রেজি: ২৩১৫১৭৫৯৯৫। গত রবিবার (৩ মে) গণিত পরীক্ষায় তাকে নিয়মিত প্রশ্নের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসের অনিয়মিত প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। এতে ওই শিক্ষার্থী তেমন কিছু লিখতে পারেনি। ফলে বিকেলে বাড়ি গিয়ে তার সিলেবাস মিলিয়ে দেখেন তাকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। এসময় ওই শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে এ ঘটনা হল সচিব মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ টিপু সুলতানকে জানানো হয়েছে। পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। 

নাইমার অভিযোগ, ঘন্টা পড়ার পরে পরীক্ষা শুরুর সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পেলেও তাকে ওই প্রশ্ন দেওয়া হয়নি। প্রায় পাঁচ মিনিট পর দায়িত্বরত একজন শিক্ষক অন্য হল থেকে একটি প্রশ্নপত্র এনে দেন। এই প্রশ্ন অন্য হাল থেকে এনে দেওয়ায় অন্তত পাঁচ মিনিট দেরি হওয়ার কারণে তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। তাকে দেওয়া ঐ প্রশ্নটিই ২০২৫ সালের সিলেবাসের কিনা তা বুঝতে না পারায় তিনি সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দেন। তবে বাড়িতে গিয়ে সিলেবাস মিলিয়ে দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, তাকে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের মাস্টার বলেন, তার স্কুলের নিয়মিত শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ নাঈমা তার স্কুলের নিয়মিত (রেগুলার) শিক্ষার্থী। রবিবার গনিত পরীক্ষার সময় নাইমাকে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্ন না দিয়ে ২০২৫ সালের অনিয়মিত নৈবর্ত্তিক প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এছাড়াও তার আরেকজন শিক্ষার্থী জান্নাতিকে 'খ' সেট প্রশ্ন পাওয়ার কথা কিন্তু তাকে সে প্রশ্ন না দিয়ে 'ঘ' সেট প্রশ্ন দেয়া হয়েছে।  এ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।  এ ব্যাপারে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা হল সচিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, নাইমাকে অনিয়মিত প্রশ্ন দেয়া হয়নি। তবে সন্ধ্যার পরে নাইমা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এ অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে। সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাতে কথা বলবে বলে ফোন কেটে দেন তিনি।  এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ টিপু সুলতান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় ও বোর্ড কন্ট্রোলার কে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে টেনশনের কোন কিছু নাই। ওই মেয়েকে পরীক্ষা দিতে বলেন।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, রবিবার পরীক্ষা শেষে রাত নটার দিকে অভিযোগ পেয়েছি। এরপর এ বিষয়ে বোর্ড কন্ট্রোলার ও ডেপুটি কন্ট্রোলারের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে ওই শিক্ষার্থীর রোল নাম্বার দিয়েছে। কেন্দ্র সচিব কে ওই শিক্ষার্থীর রোল নাম্বার সহ বোর্ডে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে।