কাপাসিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানির নিচে ধানক্ষেত : দিশেহারা কৃষক

এফ এম কামাল হোসেন; কাপাসিয়া, গাজীপুর | প্রকাশ: ৪ মে, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
কাপাসিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানির নিচে ধানক্ষেত : দিশেহারা কৃষক
সারাদেশের ন্যায় গাজীপুররের কাপাসিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো ধানের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ক্ষেতেই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে ধান পাকতে শুরু করেছে, সেসব জমি বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, “সারা বছরের কষ্ট আর বিনিয়োগ এখন পানির নিচে। দ্রুত পানি না নামলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।” এবছর ফসল কাটা এবং মাড়াই করতে অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। কৃষককে প্রতি শ্রমিকের জন্য ১ হাজার থেকে ১২'শ টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকের কাঁচা মরিচ, কুমড়া, বেগুন, পেঁপে, ধানসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কাঁচাবাজারে। বেড়েছে সব ধরনের শাক-সবজির দাম। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ক্ষতির তথ্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলা সদরের আদালতপাড়া, সাফাইশ্রী, দুনিয়া, বানারহাওলা, কাপাসিয়া ও জামিরারচর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় উপজেলা সদর সড়কে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সংলগ্ন ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নামমাত্র ড্রেনটির পানি সরবরাহের সংযোগ পথ ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী গত কয়েক বছর যাবত যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোনো সুফল পাচ্ছেন না। উল্লেখিত এলাকার পানি নিস্কাশনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীরা জোর দাবি জানায়েছেন। ছবির ক্যাপশন : কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের বীর উজলী এলাকার।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে