কালীগঞ্জে শ্রমিক সংকট, হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০১:১১ পিএম
কালীগঞ্জে শ্রমিক সংকট, হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা

চলছে বৈশাখ মাস। আকাশে কখনো কালো মেঘ, কখনো ঝকঝকে রোদ। মাঠজুড়ে সোনালি বোরো ধানের সমারোহ। এই আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের। শ্রমিক সংকট, দ্বিগুণ মজুরি এবং বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা মিলিয়ে তাদের আশার পারদ যেন নিম্নমুখী।বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ ধান কাটছেন, কেউ সারি করে রাখছেন, আবার কেউ গরু-মহিষ কিংবা স্যালো ইঞ্জিন গাড়িতে করে ধান বাড়িতে নিচ্ছেন। অনেকেই মাঠেই মাড়াইয়ের কাজ শেষ করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমান তালে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে অংশ নিচ্ছেন। তীব্র রোদ এড়াতে সকাল ও বিকালেই কাজ করছেন অধিকাংশ কৃষক।

বিভিন্ন কৃষকরা বলছেন গত বছর যে শ্রমিক ৬০০-৭০০ টাকায় পাওয়া যেত, এবার সেই শ্রমিকের মজুরি ১১০০-১২০০ টাকায় উঠেছে। ধানের দাম ভালো না হলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে কৃষকদের। বিচুলির দামও কম, তাই চিন্তা বাড়ছে।বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা বোরো ধানের সোনালি সমারোহ। দুলছে ধানের শীষ, কৃষকের চোখে ছিল স্বপ্ন আর স্বস্তির ঝিলিক। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই দেখা দিয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা। টানা বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান এখন পড়েছে বড় ঝুঁকিতে।গত কয়েক দিনের লাগাতার কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে পড়ে থাকা ধান মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। তবে তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল।কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে প্রতিকুল আবহাওয়া কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ-নবী জানান, ৬মে পর্যন্ত মাত্র ২০ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির ২০ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ ধান মাঠেই রয়েছে।বিশেষ করে কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের কারণে এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট কাটাতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটলে কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমবে, একই সঙ্গে শ্রমিক সংকটও অনেকটা দূর হবে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামানবলেন,এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় কোনো দুর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এমন টা আশা করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে