এপস্টিনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ, নতুন করে আলোচনায় রহস্যময় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
এপস্টিনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ, নতুন করে আলোচনায় রহস্যময় মৃত্যু

মার্কিন ধনকুবের ও অভিযুক্ত যৌন পাচারকারী জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক বুধবার (৭ মে) এমন একটি হাতে লেখা নথি প্রকাশ করেছেন, যেটিকে এপস্টিনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। নোটে লেখা ছিল, “বিদায় বলার সময় নিজেই বেছে নিতে পারা এক ধরনের স্বস্তি।”

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি কারাগারের কক্ষে এপস্টিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে সময় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করলেও শুরু থেকেই এ মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে।

প্রকাশিত নথিটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। দাবি করা হচ্ছে, এপস্টিনের সাবেক সেলমেট, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি নিকোলাস টার্টাগ্লিওনে এই নোটটি খুঁজে পান। পরে তার আইনজীবীরা আদালতে এটি জমা দেন। নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম নোটটির অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আনে।

নিউইয়র্কের বিচারক কেনেথ কারাস বলেন, টার্টাগ্লিওনের মামলার সঙ্গে নথিটি আদালতে জমা পড়েছিল। তাই এটি জনসাধারণের জানার অধিকারের আওতায় পড়ে। তিনি বলেন, “নোটটি গোপন রাখার পক্ষে কোনো পক্ষই গ্রহণযোগ্য যুক্তি দেখাতে পারেনি।”

তবে বিচারক নোটটির সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এটি আসলেই এপস্টিন লিখেছিলেন কি না, কিংবা কীভাবে এতদিন সংরক্ষিত ছিল, সে বিষয়েও আদালত অবস্থান নেয়নি।

আদালতে প্রকাশিত নোটের ছবিতে আরও লেখা ছিল, “তারা মাসের পর মাস তদন্ত করল, কিছুই পেল না। তাই ১৫ বছর আগের অভিযোগগুলো সামনে আনা হলো।” আরেক অংশে লেখা ছিল, “আমি কখন বিদায় জানাব, সেটা নিজে ঠিক করতে পারা এক ধরনের আনন্দ।”

২০১৯ সালের জুলাইয়ে নিউইয়র্কের কারাগারে প্রায় দুই সপ্তাহ একই কক্ষে ছিলেন এপস্টিন ও টার্টাগ্লিওনে। টার্টাগ্লিওনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলের একটি বইয়ের ভেতরে রাখা ছিল নোটটি। কয়েক সপ্তাহ পর, ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট এপস্টিনের মৃত্যুর খবর আসে।

রয়টার্স বলছে, ফেডারেল তদন্তকারীরা আগে কখনও এই নোট দেখেননি। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিচার বিভাগ যে বিপুলসংখ্যক এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করেছে, সেখানেও এই নোটের উল্লেখ ছিল না।

এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগ বহু বছর ধরেই আলোচিত। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে আবার গ্রেপ্তার হন। সেই মামলায় নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এপস্টিনের মৃত্যুর আগে একবার তাকে কারাকক্ষে গলায় দাগসহ জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন সেটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছিল কর্তৃপক্ষ। এরপর তার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।