ঝালকাঠির আলোচিত ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ ওরফে জর্দা শামীম ও তার সঙ্গে তার থাকা অপর আসামি আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। এর আগে, বুধবার রাতে রংপুর সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহমেদ (৫৫) ও আরিফ হোসেন (৪৫) ঝালকাঠি পৌর শহরের পূর্বকাঠপট্টি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তারা ঝালকাঠি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ব্যবসা ও রাজনৈতিক কারণে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এবং কলাবাগানে বসবাস করতেন। শামীম আহমেদ উত্তর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি। ২০২৩ সালে তিনি ঝালকাঠি জেলার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হয়েছিলেন। রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার (০৬ মে) রাতে সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়ার জলঢাকা সড়ক সংলগ্ন শাহী জর্দা কোম্পানি লিমিটেডের অফিসে অভিযান পরিচালনা করা করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় অফিসে সংলগ্ন শয়নকক্ষ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদসহ শামীম আহমেদ ওরুফে জর্দা শামীম ও আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা ও রামপুরা থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি একজন এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। অভিযুক্ত অপর আসামি আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা রয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠির শামীম আহমেদ এলাকায় ‘জর্দা শামীম’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। মূলত তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও তার কর্মকাণ্ড এবং জীবনযাপন নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার ইন্ধন ছিল। বিশেষ করে ঝালকাঠির প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতাকে পুঁজি করে তিনি নানা কাজ হাসিল করতেন বলে অভিযোগ আছে। এলাকায় জমি দখল, টর্চার সেলে নারী-পুরুষদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজেকে গরিবের সুলতান দাবি করা শামীম আহমেদ সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ রয়েছে। শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক অসহায় কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে। সেই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নিজ ভাইদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাড়ি ও অফিসে হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর মতো ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন শামীম আহমেদ। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।