তানোরে সরকারি গোরস্থানে প্রভাবশালীর স্থাপনা, ব্যবস্থায় উদাসিন কর্তৃপক্ষ

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ১৫ মে, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
তানোরে সরকারি গোরস্থানে প্রভাবশালীর স্থাপনা, ব্যবস্থায় উদাসিন কর্তৃপক্ষ
রাজশাহীর তানোরে সরকারি গোরস্থানের জায়গা বে-দখল করে মাটির প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য ওই গোরস্থানে কোন মৃত ব্যক্তির দাফন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এনিয়ে সম্প্রতি গত ৫ মে তানোর উপজেলার করিমপুর গ্রামের ১০ জন নামধারী প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই গ্রামের সরকারি গোরস্থান কমিটির সভাপতি মো. মুরাদ আলী বাদী হয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে স্বাক্ষর করেছেন ৬৭ জন ভূমিহীন গ্রামবাসী। এহেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদে দায়িত্বরত আব্দুল মালেককে দায়িত্ব দেন ইউএনও নাঈমা খান। কিন্তু অভিযোগের ১১ দিনেও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ক্ষোভে ও আবেগে ফুসছেন ওই এলাকার ভূমিহীন মুসল্লিরা। অভিযোগের সূত্রধরে ঘটনাস্থলে সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তানোর উপজেলার করিমপুর মৌজায় সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত ৪২২ নম্বর দাগে ৮ শতক। আর ২৫৮ নম্বর দাগে ১৬ শতক জমি রয়েছে। এই দুটি দাগে জমির শ্রেণি গোরস্থান। মুসলমানের জন্য ব্যবহার্য্য। আরএস রেকর্ড অনুযায়ী এই গোরস্থানের বর্তমান মালিক বাংলদেশ সরকার। পক্ষে ডেপুটি কমিশনার রাজশাহী। এঅবস্থায় করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ উদ্দীন এসএ রেকর্ডের তফসিল ব্যবহার করে ১৯৮০ সালে ৮৮/১২-৭৯৮০ নম্বর কেসের সূত্রধরে ১৫ বছর মেয়াদে সরকারের নিকট থেকে উক্ত সম্পত্তি বিনা ছালামীতে বন্দবস্ত দলিল করে নেয়। যার দলিল নম্বর- ২৭৬৬৮। তারিখ- ২০ নভেম্বর। ১৯৮০ সাল। সেই অনুযায়ী ১৯৯৫ সালে দলিলের ১৫ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু দলীয় আধিপত্ত্যের প্রভাবে ৩১ বছর ধরে সরকারি গোরস্থান জবর-দখল করছেন প্রভাবশালী আ.লীগ নেতা লতিফ মেম্বার ও বেলাল হোসেনসহ অভিযুক্তরা। সরকারি গোরস্থান কমিটির সভাপতি মো. মুরাদ আলী বলেন, ১৯৭২ সালে আরএস রেকর্ডের পর থেকে ওই সরকারি গোরস্থানে স্থানীয় ভূমিহীনরা মৃত ব্যক্তিদের কবর দেয়। বর্তমানে গোরস্থানটি আ.লীগ নেতা লতিফ মেম্বার ও বেলাল হোসেন মাটির দেয়াল দ্বারা ঘিরে রেখেছেন। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় গাছ গাছালি রয়েছে। বর্তমানে ওই গোরস্থানের জায়গাটি কোন কৃষি জমি হিসেবে চাষাবাদ হচ্ছে না। গোরস্থানে শায়িত আছেন ওই এলাকার ভূমিহীন আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী মতিজান, মতিজানের ভাবী ঈদন ও তাহেরা আর আব্দুল লতিফ বলে দাবি করেন হোসেন আলীসহ অনেকে। তিনি আরও বলেন, তার অভিযোগের বিবাদী আ.লীগ নেতা লতিফ মেম্বার, আনেস আলী, ইউসুফ আলী, বেলাল হোসেন, আশরাফুল, মতিউর রহমান, রুহুল আমিন, দুরুল হুদা, আল আমিন ও মোস্তাকিন তারা গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিগত আ.লীগ সরকার আমলে ক্ষমতার দাপটে সরকারি গোরস্থানটি মাটির প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলে। এরপর থেকে ওই সরকারি গোরস্থানে তাদের গ্রামের কোন ভূমিহীন মৃত ব্যক্তিকে দাফন দিতে দেয়া হয়নি। ফলে তিনি বিষয়টি সুরহার লক্ষ্যে সম্প্রতি ৫ মে ইউএনওর নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু অভিযোগের ১১ দিনেও কোন তদন্ত কিংবা কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে আ.লীগ নেতা লতিফ মেম্বার ও বেলাল হোসেন বলেন, সরকারি ওই গোরস্থান ১৫ বছর মেয়াদে করিমপুর গ্রামের হাফেজ উদ্দিনকে উক্ত সম্পত্তি বন্দবস্ত দলিল করে দেয়। বর্তমানে মেয়াদ শেষ হলেও আমরা তার ওয়ারিস সূত্রে দখলে আছি। কিন্তু দলিলের দাগের সাথে আরএস রেকর্ডের দাগের মিল নেই ব্যাপারে তিনি বলেন, এসএ দাগ নম্বর দিয়ে দলিল করা হয় বলে এড়িয়ে গেছেন। এনিয়ে তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও কানুনগো পদে দায়িত্বরত আব্দুল মালেককে ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, সরকারি গোরস্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি পরিমাপ করার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে