নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, “গুপ্তদের ব্যাপারে আপনারা বিশেষ সিরিয়াস থাকবেন। তারা চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান কেনার সময় ভেজাল করতে পারে। আপনারা সিসি ক্যামেরা রাখবেন। সরকার যে নীতিমালা দিয়েছে তা থেকে যেন এক চুলও পার না হয়। কোন সিন্ডিকেট সদস্য যেন কোন বাড়তি সুবিধা না পায়।”
এমপি বাবুল বলেন, “একদল লোক ধানের দাম নেই বলে চিৎকার করে। বট বাহিনীর কথা মনে হলে, মনে পড়ে যায় একদিন বাঙ্গালী ছিলাম রে। কিছুদিন আগেও তেলের পাম্পগুলোতে গাড়ীর অভাব ছিলনা। রাতে জ্বালানী মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি করা হলো ৫-৫ দশ সদস্যের। পরদিন সকাল থেকেই কোন পাম্পে আর লাইন নাই। বললেই হতো। আমরা সমান সংখ্যক সদস্য চাই। তাহলে আর পাম্পে ভীড় করবো না।” শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে এমপি তার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গনে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা খাদ্য বিভাগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন। সমাবেশে এমপি ফিতে কেটে বোরো সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন এবং মুনাজাতে অংশ নেন। এই উপজেলার মাতাজীহাটে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণেরও আশ্বাস দেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার নান্নু, মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, উপজেলা চাউলকল মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক ও সফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বাচ্চু এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আরেফিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে চাল কল ব্যবসায়ী বিদ্রোহ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে মহাদেবপুর সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান, সরস্বতিপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, মাতাজীহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী, মহিষবাথান খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র বর্ম্মণ, খাদ্য পরিদর্শক সোহেল রানা, উপজেলা চাল কল মালিক গ্রুপের নেতা আইনুল হোসেন, জিল্লুর রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন অর রশিদ রাজু, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, এবার উপজেলার পাঁচটি খাদ্যগুদামে ৩৬ টাকা কেজি দরে দুই হাজার ৯৮৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৪৮ টাকা কেজি দরে চার হাজার ৬৯ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৬৬ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে। উদ্বোধনী দিনে উত্তরগ্রামের কৃষক সোহেল রানার কাছ থেকে এক মেট্রিক টন ও দোহালী গ্রামের কৃষক রানা চৌধুরীর কাছ থেকে দুই মেট্রিক টন ধান এবং জাহিদ অটো রাইস মিল থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল কেনা হয়।