পাহারাদারকে বেঁধে মাছ লুটের হোতাকে নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
পাহারাদারকে বেঁধে মাছ লুটের হোতাকে নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার
দুই বছর ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি তথ্যপ্রযুক্তিকে এড়িয়ে চলছিলেন রহিদুল ইসলাম (৫৫)। পুলিশও নাছোড় বান্দা। কৌশল পাল্টে ধরে ফেলে তাঁকে। তিনি আন্তঃজেলা মাছ লুট চক্রের মূলহোতা। তিনি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের আবদুল হামিকের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজশাহী ও নওগাঁ এলাকায় ছয়টি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আজ শনিবার ভোরে রাজশাহীর বাগমারা থানার পুলিশ নওগাঁ সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। বাগমারা থানার উপপরিদর্শক শিহাব উদ্দীন বলেন, আজ ভোরে নওগাঁ সদর থানাধীন তুলসীগঙ্গা এলাকা হতে রহিদুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বাগমারা থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একই অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারা, দুর্গাপুর তানোর এবং নওগাঁর রাণীনগর ও মহাদেবপুর থানায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসবের মধ্যে পাঁচটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পাঁচ থানার পুলিশ তাঁকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাজশাহী ও নওগাঁ এলাকায় রাস্তা সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত পুকুরকে টার্গেট করে মাছ লুট করে আসছে। চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া রহিদুল ইসলাম। তারা গভীর রাতে পিকআপ নিয়ে পুকুরে আসে। প্রথমে পাহারাদারকে ধরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং মুঠোফোন কেড়ে নেয়। পাহারাদারকে পুকুরের এক ধারে ফেলে রাখে। পরে পুকুরে জাল ফেলে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। সুযোগ মতো আড়তে বিক্রি করে। এভাবে শুধুমাত্র বাগমারা এলাকা থেকে ১২টি পুকুরের মাছ লুট হয়েছে গত দুই বছরে। ঝিকড়ার ব্যবসায়ী সমির উদ্দিন জানান, 'গত বছরে আমার দুইটা পুকুর থেকে এভাবে মাছ লুট হইয়েছে।' মামলার তদন্তজারী কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকা ও সব অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ আগে এই চক্রের চার সদস্যকে আটক করে মূল হোতা হিসেবে রহিদুল ইসলামকে শনাক্ত করে। তবে সে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। তথ্যের প্রযুক্তির ফাঁদ এড়িয়ে চলাফেরা করতেন। ঘন ঘন নতুন মোবাইল ফোন ও নম্বর পরিবর্তন করতেন। এজন্য ধরতে বেশ সময় লেগেছে৷ এর পরেও পুলিশ তাকে ধরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখে। বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, এই মূলহোতা রহিদুল ইসলামকে ধরার পর চক্রের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলো। সে খুবই চতুর ও কৌশলী। এই কারণে তাকে ধরতে পুলিশকেও কৌশল পাল্টাতে হয়েছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে