তানোরে কৃষক পর্যায়ে সংকরায়ণ

বাছাই পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন ধান উদ্ভাবন করলেন নুর মোহাম্মদ

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) :
| আপডেট: ১৭ মে, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম | প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
বাছাই পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন ধান উদ্ভাবন করলেন নুর মোহাম্মদ

রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ একজন প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন কৃষক। পেয়েছেন জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। কৃষক পর্যায়ে কৃষি গবেষণায় কৃষি উন্নয়নে দেশ গড়ার প্রচেষ্টায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবত অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতার সাথে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছেন ধানের আউশ, আমন ও বোরো ধানের বিভিন্ন কৌলিক সারি। উদ্ভাবিত সারিগুলোর জীবনকাল অন্যান্য জাতের তুলনায় কম, উচ্চ ফলনশীল, সরু, সুগন্ধিযুক্ত ও খরা সহিষ্ণু, গাছ মজবুত, ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়েনা, রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমন প্রচলিত জাতের তুলনায় কম। লাল চাল, কালো চালসহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছেন। 

খরা প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চল ও বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে চাষের উপযোগী। তিনি দেশী জাতের উন্নতি ঘটিয়ে ধানের জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন। এতে ফসলে পানির প্রয়োজনীয়তা কম লাগে এবং ফসল বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। খরা পীড়িত বরেন্দ্র অঞ্চলে কিভাবে কম পানিতে কম সময়ে কম খরচে ধান কেটে ঘরে তোলা যায় এ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে নিত্য নতুন প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন ও এলাকার কৃষকদের মাঝেও নিত্য নতুন প্রযুক্তি বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। কৃষক পর্যায়ে ধানের নতুন নতুন সারি উদ্ভাবন করায় এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমে নতুন নতুন দেশি-বিদেশী উন্নত জাতের ধানের অবস্থা তাদের নিজ এলাকায় দেখার সুযোগ পেয়েছে। 

তারা তাদের পছন্দের জাত সমূহ চিহ্নিত করে বীজও সংগ্রহ করতে পেরেছে। সে জন্য এলাকায় উপশী জাতের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হয়েছে। এলাকার কৃষকরা তার প্রযুক্তিতে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। খরা সহিষ্ণু সারিগুলোর জীবনকাল কম হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরুর আগেই ধান কেটে ঘরে তোলা যাবে। আগাম ওঠার কারণে সেচের খরচ কম হবে, ভালো বাজার মিলবে। সে কারণে সারিগুলো বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী। নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা ফার্মে গবেষণা প্লটের ২টি জাত ও ২০০ সারির মধ্যে স্থানীয় জিরা ধানের বিকল্প হিসাবে 'নূর ধান-১' কর্তন করা হয়। কর্তন মাড়াই ঝাড়ায় শেষে শুকনা ওজনে হেক্টর প্রতি ৬ মেঃ টঃ বিঘা প্রতি ২০ মন, চাউলে হেক্টর প্রতি ৪ মেঃ টঃ ১১.১২ মন ফলন পাওয়া যায়। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১৯.১ সে.মি। কুশির সংখ্যা গড় ১৪, ছড়ার দৈর্ঘ্য গড় ২৮.৪ সে.মি ১,০০০ হাজার পুষ্ট দানার ওজন ১৯.৮০ গ্রাম। জীবন কাল ১৫০ দিন। চাল লম্বা চিকন যা জিরা চালের অনুরূপ ভাত ঝরঝরে। ধান কর্তন করার সময় উপস্থিত ছিলেন: সাইফুল্লাহ আহম্মদ, কৃষি অফিসার, শাহাদাৎ হোসেন কৃষি সম্প্রসারন অফিসার, শরিফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান অফিসার, ডি এফ এম এমদাদুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারন অফিসার, আলী রেজা, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, সোয়াইব, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ও এলাকার কৃষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে