আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পাবনার চাটমোহরের কোরবানী পশুর বেচাকেনা। এ উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ৪ হাজার খামারি কোরবানির পশু প্রস্তুতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদার তুলনায় বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত হওয়ায় খামারিদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলেও,গো-খাদ্যের বাড়তি দাম তাদের মনে তৈরি করেছে লাভ নিয়ে শঙ্কা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,চাটমোহর উপজেলার ৩ হাজার ৯৮১জন খামারির কাছে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৬৫ হাজার ৩২০টি গবাদি পশু। এরমধ্যে ষাঁড় গরু ১৭ হাজার ৮৬৩টি,বলদ গরু ২ হাজার ৯২৫টি, গাভী ৪৩৫টি,ছাগল ৩৭ হাহার ৩৪৪টি,মহিষ ৪৬৫টি ও ভেড়া ৬ হাজার ২৮৮টি। অথচ এ উপজেলার কোরবানী পশুর চাহিদা ৩৮ হাজার৮২২টি। ফলে চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ২৬ হাজার ৪৯৮টি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হবে।
রবিবার (১৭ মে) উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়,ঈদকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কেউ নিজ হাতে খামারের প্রতিটি গরুর যত্ন নিচ্ছেন,আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দিন-রাত পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের খামার। খড়,ঘাস,ভুসি,ভুট্টাসহ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে সুস্থ ও আকর্ষণীয় গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।
উপজেলার জাবরকোলের খামারি সাইফুল ইসলাম বললেন,অতি যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে গরুগুলো লালন-পালন করেছি। দেশীয় ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে বড় করেছি। এবার কোরবানির হাটে তুলবো,আশা করছি দাম পাবো।
চাটমোহরের বৃহৎ দুইটি কোরবানীর হাটে ইতোমধ্যে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা হাটে প্রচুর গরু-ছাগল,মহিষ ও ভেড়ার আমাদানি হয়। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। দাম নাগালের মধ্যেই আছে বলে জানালেন একাধিক ক্রেতা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার বললেন, ‘আশা করা যাচ্ছে খামারিরা এবার লাভবান হবেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় বিভিন্ন পশুর হটে মেডিকেল টিম কাজ করছে।