সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরনের সময় বনবিভাগের টহল টিমের গুলিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক জেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) সকালে সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের আওতাধীন পাটকোস্টা অভয়ারণ্য এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে তার মরদেহ লোকালয়ে নিয়ে এসেছেন তার সহকর্মীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত জেলের নাম আমিনুর রহমান গাজী (৪২)। সে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ছোরা গ্রামের মৃত. আকছেদ গাজীর ছেলে। তার সাথে থাকা জেলে আহম্মদ আলী, সেলিম হোসেন ও রমজান আলীর বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, গতত ১৩ মে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে তারা ৪জন এক সাথে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরনে যান। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টার দিকে সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের আওতাধীন পাটকোস্টা অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরনের সময় বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা তাদের দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেন। কিন্তু নির্দেশনা মানতে গড়িমসি করায় বনবিভাগের নলিয়ান টহলফাড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন তাদের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে, এ ঘটনায় সোমবার (১৮ মে) বিকাল ৪টার দিকে দুই শতাধিক বনজীবী দলবদ্ধ হয়ে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও পার্শ্ববর্তী বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসে হামলা করে। কয়েক মিনিট ধরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও সীমানা বেঁড়া ভাংচুরের পরপরই শামনগর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বনবিভাগের সদস্যদের গুলিতে জেলে আমিনুরের মৃত্যুর ঘটনায় বনজীবীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, জলদস্যুরা গোটা সুন্দরবনজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও বনবিভাগ বা কোস্টগার্ড তাদের টিকিটি পর্যন্ত ছুঁতে পারছে না। অথচ নিরীহ জেলেদের উপর গুলি চালিয়ে লাখ লাখ বনজীবীর জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে ভীতি ছড়ানো হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান চলছে। প্রকৃতপক্ষে কাদের গুলিতে ওই জেলের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জেলে নিহতের ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জে ঘটেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিম পরিচালনার কথা জেলেদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমিনুর রহমানের নিহতের ঘটনার সাথে বনরক্ষী কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে অবশ্যই তাকে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে।