অধিকাংশই মানবপাচারের শিকার

লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় লিবিয়ায় আটকা পড়া আরও ১৭০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়ার বেনগাজী থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছান। প্রত্যাবাসিতদের বেশির ভাগই মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় লিবিয়ায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আইওএম এবং লিবিয়া সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশে ফেরা অনেক বাংলাদেশিই লিবিয়ায় গিয়ে অপহরণ, নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলেও জানা গেছে।

বিমানবন্দরে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আইওএমের কর্মকর্তারা। আইওএমের পক্ষ থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাদ্যসামগ্রী, পথখরচা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রত্যাবাসিতদের নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, “অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এই অভিজ্ঞতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে দূতাবাস নিয়মিত কাজ করছে। ত্রিপলীর তাজুরা ও বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সাক্ষাৎকার ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজও চলছে।

দূতাবাস আরও জানিয়েছে, আগামী শনিবার (২৪ মে) ও শনিবার (৩১ মে) আরও প্রায় ৩৫০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (৭ মে) ১৭৪ জন এবং মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে