নাটোরের লালপুর উপজেলার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘ আন্দোলন, দাবি ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ফলে আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই লালপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তকে লালপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অবশেষে আজিমনগর স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ অনুমোদন নিশ্চিত হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৬ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব দিপন দেবনাথ স্বাক্ষরিত সরকারি চিঠিতে জানানো হয়েছে-স্থানীয় যাত্রীচাহিদা, যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচলকারী ৮০৫/৮০৬ নং চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের আজিমনগর স্টেশনে যাত্রাবিরতি চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালপুরবাসীর মতে, এ অঞ্চলের উন্নয়ন আজকের নয়-দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক ফল এটি। প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সনে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা প্রয়াত সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, কৃষি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লালপুরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
সেই উন্নয়ন দর্শন ও জনসেবার উত্তরাধিকার বহন করে বর্তমানে তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
আজিমনগর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ অনুমোদনকে স্থানীয়রা “বাবার স্বপ্নের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন”হিসেবেই দেখছেন।
এতদিন আন্তঃনগর ট্রেন সুবিধা না থাকায় লালপুর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাজারো মানুষকে দূরের স্টেশন ব্যবহার করতে হতো। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তির শিকার হতেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে-
ঢাকা যাতায়াত সহজ হবে
ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে
চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবায় গতি আসবে
ঈদ যাত্রায় স্বস্তি পাবে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ঈদের আগেই যাত্রাবিরতি চালু হলে লালপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রাবিরতি কার্যকর করা হবে।