পাবনা চাটমোহর উপজেলার লিচু অঞ্চল বলে খ্যাত গুনাইগাছা,রামচন্দ্রপুর,জালেশ্বর এলাকার লিচুবাগানগুলোয় এখন লিচুর সমারোহ। এ এলাকার দেশি জাতের লিচু এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। দামও নাগালের ভেতর থাকায় ক্রেতারা লিচু কিনতে দ্বিধা করছেন না। লিচু বিক্রির ধূম পড়েছে। এবার মৌসুমের শুরুতে প্রচুর মুকুল দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। তাই হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়,চাটমোহরে এবার ৪৮০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে।
গতকাল বুধবার উপজেলার গুনাইগাছা এলাকার কয়েকটি লিচুবাগান ঘুরে দেখা যায়,বাগানে পাকা লিচু থোকা থোকা। বাগান মালিক ও লিচুর বেপারীরা লিচু পারছেন। কেউ গাছ থেকে লিচু পারছেন,কেউ কেই সেই লিচু পরিস্কার করে বাঁধছেন আবার কেউ ঝুড়িতে সাজিয়ে কাপড় বা চট দিয়ে সেলাই করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারী এসে বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন চাষিরা।
আলাপকালে চাষিরা জানান,চলতি মৌসুমের শুরুতে বাগানগুলোতে গাছে গাছে দেখা যায় প্রচুর মুকুল। তখন থেকে আশায় বুক বাঁধেন তাঁরা। যত্স করার পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো।
লিচুচাষি মামুনুর রশিদ বলেন,এ বছর মুকুল আসার পর থেকে সেচ,সার,কীটনাশক প্রয়োগ করে গাছের যত্ন নিয়েছেন তাঁরা। ফলন ভালো দেখে হাসি ফুটেছে সবার মুখে। গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে জানান তিনি।
আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,চাটমোহরের দেশি লিচুর সুনাম ও চাহিদা সারা দেশে। দেশি জাতের লিচু আগে পাকে। সেটাই এখন গাছে। প্রতিদিনই বাজারে উঠছে এই লিচু। আর বোম্বাই,মোজাফফরসহ অন্য জাতের লিচু বাজারে আসবে কোরবানির ঈদের পর। এ বছর চাটমোহরে ৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা বলেন,‘আমরা লিচু চাষিদের নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। চাষিরাও গাছের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করেছেন।