রাজশাহীর বাগমারায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বাগমারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।
উপজেলা সমন্বয়কারী নারায়ণ চন্দ্র অধিকারীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাঈদ আলী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কার্যক্রমের স্থানীয় প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল হক ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দীন ও প্রথম আলোর বাগমারা প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ মামুনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় বিরোধ সহজে নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের গুরুত্ব অপরিসীম। “স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি গ্রাম আদালতকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সুপারিশ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের আওতায় বাগমারায় ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও কর্মশালায় জানানো হয়।