বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে গায়িকা খুন

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ২৩ মে, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে গায়িকা খুন

ভারতের পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী ইন্দর কৌর হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজার করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ইন্দর কৌর। এরপর আর ফেরেননি তিনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করেন। ১৯ মে লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিল্পীর ভাই জোটিন্দর সিং জানান, মোগার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখার সঙ্গে ইন্দরের সম্পর্ক ছিল। পরে ইন্দর জানতে পারেন, সুখবিন্দর বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। এরপর তিনি সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তাব দুটিই প্রত্যাখ্যান করেন এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরেই ১৩ মে সুখবিন্দর ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে ইন্দর কৌরকে অপহরণ করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অভিযুক্তরা কানাডা থেকে নেপাল হয়ে পাঞ্জাবে আসে এবং হত্যাকাণ্ডের পর একই পথে পালিয়ে যায়।

গত ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং ও তার সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুখবিন্দরের বাবা প্রীতম সিং ও বন্ধু করমজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত সুখবিন্দর সিং কানাডায় পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

থানার কর্মকর্তা বলবীর সিং জানিয়েছেন, ইন্দর কৌরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সমরালার সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে হয়তো জনপ্রিয় এই শিল্পীকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তারা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইন্দর কৌর পাঞ্জাবি সংগীত জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘আফগান জট্টি’, ‘সোহনা লাগদা’, ‘লানেদারনি’ ও ‘সোনে দি ওয়াং’-এর মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। গানের পাশাপাশি পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার। প্রায় পাঁচ বছর আগে সংগীত জগত থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে তিনি একটি বুটিক ও মেকআপ স্টুডিও পরিচালনা করছিলেন।

জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভক্ত ও সহশিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে