ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। এরই মধ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও পণ্যবাহী যানবাহনের শ্রমিকরা।
রোববার (২৪ মে) ভোররাত ৪টার দিকে শুরু হওয়া যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে গজারিয়ার বিভিন্ন অংশে ধীরগতিতে চলতে থাকে যানবাহন। কোথাও কোথাও একেবারেই থেমে যায় গাড়ির চাকা।
জানা গেছে, দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারিতে মহাসড়কের কয়েকটি অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার ক্লান্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।
চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক শামীম মিয়া বলেন, “জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছি। পরে শুনলাম দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনা হয়েছে। তাই যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না।”
একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে বাসচালক শহিদ বলেন, “বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে জ্যামে পড়েছি। কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব বুঝতে পারছি না।”
এক বাসযাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মহাসড়কে প্রায়ই যানজট হয়। নির্ধারিত সময়ে কোথাও পৌঁছানো যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে বসে থাকতে হয়।”
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ বলেন, “দাউদকান্দি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণেই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। আশা করছি, দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
ঈদযাত্রা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। তাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।