পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে প্রস্তুত হচ্ছে লাখো মানুষ। কিন্তু আনন্দযাত্রার এই মুহূর্তে মানুষের মনে ভর করছে দুশ্চিন্তা- সড়কে যানজট, অব্যবস্থাপনা আর দুর্ভোগ যেন প্রতি বছরই ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। মহাসড়কের কোথাও খানাখন্দ, কোথাও উন্নয়নকাজের কারণে রাস্তার করুণ দশা, আবার পথে পথে পশুর হাট- সব মিলিয়ে যাত্রা হয়ে ওঠে কষ্টকর। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারও পরিস্থিতি খুব একটা বদলাবে না। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, আর তাদের অধিকাংশই সড়কপথ ব্যবহার করবে। দেশের সাতটি মহাসড়কে চিহ্নিত হয়েছে প্রায় শতাধিক যানজটের হটস্পট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অন্তত ২৫টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ এবার যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগাবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাতটি স্থানে যানজটের সম্ভাবনা, আর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুরবস্থা তো স্বাভাবিক সময়েই যাত্রীদের ভোগায়। যানজটের কারণ শুধু রাস্তার অবস্থা নয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হয়ে পড়া, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য- সবই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। হতাশার বিষয় হলো, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান দেখা যায় না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়, নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয় না। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এবার সিসিটিভি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়- এতে কতটা পরিবর্তন আসবে? পশুর হাট যেন মহাসড়কে না বসে, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে, যাতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরে। আমরা মনে করি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাস্তার সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে, যানজটপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পশুর হাট মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে মানুষের যাত্রা বাধাহীন হয়।