রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের চিরিরবন্দরের রানীরবন্দরে ড্যাম্পট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের চালকসহ ৬ যাত্রী গুরুতর হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা ড্যাম্প ট্রাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আহতদের দিনাজপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সড়ক দূর্ঘটনাটি গতকাল ২৪ মে রবিবার আনুমানিক বেলা ১১টায় উপজেলার রানীরবন্দরের নশরতপুর ইউনিয়নের তেগআলী শাহর মোড় নামক স্থানে ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রানীরবন্দর সুইহারীবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি ইজিবাইক যাত্রী নিয়ে দশমাইলের উদ্দেশ্য যাত্রা করলে ওই স্থানে পৌছলে বিপরীতদিক থেকে আগত একটি ড্যাম্পট্রাক ইজিবাইকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ড্যাম্পট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের চালকসহ ৬জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন- উপজেলার নশরতপুর গ্রামের গুড়িয়াপাড়ার আতাউর রহমানের ছেলে ইজিবাইক চালক রায়হান আলী (৩৫), ইজিবাইকের যাত্রী আলোকডিহি ইউনিয়নের ঘাটেরপাড়ের মোত্তালেব হোসেন (৫৫) তার স্ত্রী গুলিয়ারা বেগম ওরফে বিউটি (৫০) ছেলে বাঁধন, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গোন্দল গ্রামের সর্দারপাড়ার সুরেশ চন্দ্র রায় (৬০), খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের মাড়গাঁও গ্রামের আল আমিনের স্ত্রী ইয়াসমিন (১৮) ও মেয়ে আনিছা খাতুন (২)। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা ড্যাম্পট্রাকের আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এঘটনার পর থেকে মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের দুইধারে শত শত যান আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে ৪ টায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেহা তুজ জোহরা দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, রাস্তা অবরোধ কালচার থেকে সকলকে বের হয়ে আসতে হবে। জণগণ ও যাত্রীদের কোন মতেই হয়রানী করা যাবেনা। আইনগত ভাবে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ দিতে হবে। চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদন্নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।