বিদ্যুৎ বিতরণে শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করুন: জনাব এস এম নাজের হোসাইন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
| আপডেট: ২ জুন, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম | প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
বিদ্যুৎ বিতরণে শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করুন: জনাব এস এম  নাজের হোসাইন

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য রাজধানীতে সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আয়োজনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দাম বাড়ানোর বিষয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলমান। দাম বাড়বেই এটা যেন স্বতঃসিদ্ধ। কারণ বর্তমান বিএনপি সরকার এসেই আগের সরকারের মতোই বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের ওপর দায় চাপানোর পুরোনো সংস্কৃতিকে পুরোপুরি নকল করে প্রয়োগ করছেন। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য লোকসান হলেই দায় নিতে হবে জনগণকে। বিদ্যুতের বেলায়ও তাই হবে। গণশুনানিতে বিতরণ কোম্পানিগুলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর বোঝা চাপিয়ে সরকারকে লোকসান কমানোর সুপারিশ করেছেন। কিন্তু যে সমস্ত গ্রাহকের কথা চিন্তা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন বিতরণ কোম্পানিগুলো, সেই গ্রামের গ্রাহকরা দিনের পুরোটা সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। অধিকাংশ সময় ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়ে এধরণের করুন অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেশের ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বে ১২ মে ২০২৬ইং এবং ঈদুল আযহার সময় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কক্সাবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও মাতামুহুরী উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে গ্রামের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে উপনিবেশিক আমলের চেয়ে চরম অব্যস্থাপনা ও শহর গ্রামের মধ্যে চরম বৈষম্য হলে অবিলম্বে এই ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে আগের সরকারের আমলের ন্যায় বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা সার্ভিস নিয়ে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রদান না করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান। সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান “দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট রয়েছে এবং লোডশেডিং এর প্রয়োজন নেই”। “অথচ পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় ১৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ আসলেও পরবর্তী দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না”। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাঁরা জানান, তাঁরা পিডিবি থেকে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ করেন। সেকারণে বিতরণ লাইনে তাদের কোনো হাত নেই। এমনকি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেয়া হলেও মহেশখালী উপজেলাও দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছে। ০২ জুন ২০২৬ইং সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।  বিবৃতিতে ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নাই বলে দাবি করা হলেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতায় চরম ভোগান্তির অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে অনেক জেলা ও বিভাগীয় শহরে ঈদের ছুটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। শহর ও গ্রামের বিদ্য্যুৎ ব্যবস্থাপনায় এধরনের চরম বৈষম্য বিগত সরকারগুলোর আমলের চিত্রকে এবার হার মানিয়েছে। বিবৃতিতে ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণে চরম বৈষম্যের বড় একটি দৃষ্টান্ত হলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকায় বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ নাই হয়ে যায়। ঝড়ো হাওয়া বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার সক্ষমতা এখনো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। বিগত সরকারগুলোর নানাবিধ উদ্যোগে গ্রামে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলেও গ্রামে মানসম্মত বিদ্যুত সরবরাহের অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন সম্ভব হয়নি। সামান্য ঝড়বৃষ্টিতে ঘটে বিদ্যুৎবিভ্রাট। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। কখনো কখনো বিদ্যুৎ ফিরে আসতে লেগে যায় কয়েক দিন। বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতিতে দেশের ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব আরইবির। অথচ সংস্থাটির এত বড় দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনে দক্ষতা, সক্ষমতা ও জনবল কোনোটাই নেই। তাঁদের ভঙ্গুর বিতরণব্যবস্থার কারণে সাধারণ গ্রাহক শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুফল পাচ্ছে না। বিবৃতিতে ক্যাব নেতা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৬২টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে আরইবির ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাটির বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিতরণ লাইন আছে বর্তমানে ৫ লাখ ৩৭ হাজার কিলোমিটার। যার আওতায় মোট গ্রাহক আছে ৩ কোটি ৬০ লাখ আর জনবল প্রায় ৪০ হাজার। দেশে বিদ্যুতের ৫৮ শতাংশ সরবরাহের কঠিন দায়িত্বপালনকারী সংস্থাটি গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের মানসম্মত অবকাঠামো, জনবলসংকট প্রকট। আরইবি ও পিবিএসের মধ্যে বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা ও অসন্তোষ নিয়ে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন চলমান রয়েছে। নীতি প্রণয়নে অদক্ষতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক মালামাল কিনে ভঙ্গুর বিতরণ ব্যবস্থা তৈরি করায় গ্রামের সাধারণ গ্রাহক শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুফল পাচ্ছেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে