বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে এক যুবদল নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সাথে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। মৃত মনির খান (৩৮) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর গ্রামের আব্দুল হক খানের ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাতে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ৯ জুন সকালে মনির খানকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকারের পরামর্শে একইদিন বিকেলে তাকে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মৃত মনির খানের চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াদ মিরন বলেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মনির খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তবে বুধবার সকাল থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় চিকিৎসকদের একাধিকবার জানানো হলেও তারা যথাসময়ে সাড়া দেয়নি।
মৃতের চাচাতো বোন সাথী আক্তার জানান, রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুবেন্দু হালদার শিবুকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে অনেক সময় পরে রোগীর কাছে যান। পরে রোগীকে খাবার দেওয়ার জন্য মুখে রাইস টিউব (ফিডিং টিউব) লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। টিউব লাগানোর কিছুক্ষণ পর (বুধবার দুপুরে) রোগীর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। পরে চিকিৎসক রোগীর কক্ষ থেকে স্বজনদের বের করে দেন এবং কিছুক্ষণ পর জানান যে রোগী আর বেঁচে নেই। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাদের দুইজন স্বজনকে মারধর করেছেন। অপরদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, উত্তেজিত স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসক সুবেন্দু হালদার শিবুর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন, ফলে তিনি আহত হন। এসময় রোগীর স্বজনদের হামলা ঠেকাতে গিয়ে হাসপাতালের আরও দুইজন কর্মচারী আহত হয়েছে। তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক সুবেন্দু হালদার শিবু। তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোগীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত হয়ে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।