রাজশাহীর পুঠিয়ার এক পানবরজ চারদিকে সবুজ লতার আচ্ছাদন। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি বরজ বলেই মনে হবে। কিন্তু সেই বরজের ভেতরেই চলছিল নিষিদ্ধ মাদক গাঁজার চাষ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সেই চাষের হদিস পেল র্যাব-৫।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১টা ১০ মিনিটে পুঠিয়া উপজেলার কাজুপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৫, রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল। অভিযানে পানবরজের ভেতর থেকে ছয়টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় ওই বরজের মালিক মো. সাহাবুর মোল্লা (৩৫)-কে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজা গাছগুলোর মোট ওজন প্রায় সাড়ে ৮ কেজি এবং প্রতিটি গাছের উচ্চতা প্রায় ১২ ফুট। দীর্ঘদিন ধরে নিজের জমির পানবরজে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন সাহাবুর। পরে সেগুলো স্থানীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহাবুর মোল্লা গাঁজা চাষ ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তিনি জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসব গাঁজা গাছের চাষ করেছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, পানবরজের ঘন সবুজ আচ্ছাদনের কারণে বাইরে থেকে সহজে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে মাদক গাছের চাষ হচ্ছে। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহীর পুঠিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে এ ধরনের সাফল্য স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও প্রশ্ন উঠেছে— পানবরজের আড়ালে এতদিন কীভাবে চলছিল নিষিদ্ধ গাঁজার চাষ? সেই উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।