তিন মাসের নিখোঁজের পর

দেশজুড়ে আলোচিত সীমান্তে পাওয়া ষষ্টি চন্দ্র ফিরছে বাড়ী

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী): | প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
দেশজুড়ে আলোচিত সীমান্তে পাওয়া ষষ্টি চন্দ্র ফিরছে বাড়ী

তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫)। পরিবার যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিল, তখন দেশের আলোচিত এক সীমান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে মিলেছে তার সন্ধান। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশ-ইনের শিকার হিসেবে উদ্ধার হওয়া সেই বৃদ্ধই যে গোদাগাড়ীর নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন, তা নিশ্চিত করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয় বিজিবি। পরে বিজিবি নিশ্চিত করে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মন একজন বাংলাদেশি নাগরিক।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন পেশায় মৎস্যজীবী ও কৃষক ছিলেন। এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক তিনি। সন্তানদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। মাছ ধরা আর কৃষিকাজ করেই চলছিল তার জীবন।

তবে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে সবসময় নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করলেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। পরিবারের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিনি কোনোভাবে ট্রেনে চড়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন। এরপর কীভাবে তিনি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী বলেন, "পরিবারটি অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন, সীমান্তে উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধই ষষ্টি চন্দ্র বর্মন।" সন্ধান পাওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রহর গুনছে পরিবার। এ ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুরক্ষার বিষয়টি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, "ওকে ফিরে পেলেই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হবে।" তিন মাসের অনিশ্চয়তা, সীমান্তের শূন্যরেখায় কাটানো দীর্ঘ সময় আর পরিবারের অশ্রুসিক্ত অপেক্ষা-সবকিছুর শেষে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের ফিরে আসার এই গল্প এখন গোদাগাড়ীসহ সারা দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে