সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেছেন, "সরকার জনগণের কল্যাণে মুক্তহস্তে ও খোলা মন নিয়ে কাজ করছে। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ বা তসরুপ করার কোনো অধিকার কারও নেই। উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম কিংবা সরকারের একটি টাকাও অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে আমার দলের লোক হলেও কোনো ছাড় নেই।" শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গরিব, অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সেলাই মেশিন, চাল ও হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে পারে। তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "শুধু মুখে যুদ্ধ বা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদক থেকে ফিরে আসা তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।"
সামাজিক অপরাধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার মতো অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক সচেতনতা। সমাজের প্রতিটি মানুষকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বিরোধ ও বিচারিক বিষয় নিষ্পত্তির সুযোগ পায়। এতে জনগণের ভোগান্তি কমবে এবং ন্যায়বিচার আরও সহজলভ্য হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকতউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জুসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।