মহেশপুর সীমান্তে

পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি-এলাকাবাসী

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি-এলাকাবাসী

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সীমান্তে কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি।মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধীন ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। এর মধ্যে পুশ-ইন ঝুঁকিতে রয়েছে যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা, বাঘাডাঙ্গাসহ অন্তত পাঁচটি বিওপি। এসব বিওপি এলাকায় কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

মহেশপুরের সঙ্গে ভারতের ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ কিলোমিটার জুড়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। যাদবপুর ও মাটিলা বিওপি সংলগ্ন এলাকায় ১০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের কোনো বেড়া নেই। ফলে এই ১০ কিলোমিটার সীমান্ত পুশ-ইন ঝুঁকিতে রয়েছে।স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের আঁধারে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে পুশ-ইন চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে স্থানীয়দের শোরগোল, মাইকিং ও টর্চ লাইটের আলো নিক্ষেপণে ভেস্তে যায় বিএসএফের এ অপচেষ্টা।সীমান্তবর্তী পাখরাইল গ্রামের বাসিন্দা বিপুল হোসেন বলেন, ‘বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে লোক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তাদের এ অপচেষ্টা রুখে দিতে এলাকাবাসী বিজিবির সঙ্গে রয়েছে।

সীমান্তবর্তী গোপালপুর গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন, কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে বিএসএফের তৈরি সড়কে গত এক সপ্তাহে বড় বড় গাড়ি আসতে দেখেছি। ওই ধরনের গাড়ি আগে কখনো সীমান্তে আনেনি বিএসএফ। বড় গাড়িতে করে লোকজন ধরে এনে কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তবে এলাকাবাসী ও বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে অন্তত পাঁচটি পুশ-ইন চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিইও লে. কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে খবর পেয়েছি। বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে সব রকম রিসোর্স কাজে লাগাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও সৈনিকদের সঙ্গে টহলে সহায়তা করছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এক ইঞ্চি ছাড় দেবো না ইনশাআল্লাহ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে